উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত, আহত ও নিখোঁজদের তথ্য সংগ্রহের জন্য কলেজ প্রশাসন একটি কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল তার ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ড. আসিফ নজরুল জানান, গত ২১ জুলাই উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী অ্যাকাডেমিক ভবনে বিমানবাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বহু শিশু শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী হতাহত হন। নিহত, আহত ও নিখোঁজদের সঠিক সংখ্যা এবং তাদের ঠিকানাসহ তালিকা প্রস্তুত করতে কলেজ প্রশাসন কন্ট্রোল রুম চালু করেছে।
কন্ট্রোল রুমের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গঠিত কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন:
মো. মাসুদ আলম, উপাধ্যক্ষ (প্রশাসন)
মিসেস খাদিজা আক্তার, প্রধান শিক্ষিকা
মিসেস লুৎফুন্নেসা লোপা, কো-অর্ডিনেটর
মনিরুজ্জামান মোল্লা, অভিভাবক (শিক্ষার্থী: যাইমা জাহান, শ্রেণি: চতুর্থ, ক্লাস কোড: ২২৭৪)
মারুফ বিন জিয়াউর রহমান, শিক্ষার্থী (বিজ্ঞান বিভাগ, দ্বাদশ শ্রেণি)
মো. তাসনিম ভূঁইয়া প্রতীক, শিক্ষার্থী (বিজ্ঞান বিভাগ, দ্বাদশ শ্রেণি)
এই কমিটি নিহত, আহত ও ক্লাসে উপস্থিত শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা প্রস্তুত করবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় ২৯ জন নিহত এবং ৫৭ জন আহত হয়েছেন। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ৪৪ জন এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ১৩ জন চিকিৎসাধীন। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল দল আহতদের চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ করছে।
মাইলস্টোনের অভিভাবক রহিমা খাতুন বলেন, “কন্ট্রোল রুম চালু করা একটি ভালো উদ্যোগ। এখন আমরা আমাদের সন্তানদের সঠিক তথ্য পাব। তবে তদন্তের মাধ্যমে এই দুর্ঘটনার কারণ জানতে চাই।”

