"এক ঘরে করা হোক পাকিস্তানকে"


paperslife

ক্রিকেট মাঠে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ এখন আর দেখা যায় না। বৈশ্বিক কোনো টুর্নামেন্ট ছাড়া দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এখন সেই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টেও পাকিস্তানকে বয়কট করার দাবি ভারতের সাবেক ওপেনার গৌতম গম্ভীরের।
রাজনৈতিক টানাপোড়নে দুই দল নিজেদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে না অনেক বছর ধরেই। তবে এবার শুধু দ্বিপাক্ষিক সিরিজই নয়, বাইশ গজের ক্রিকেটে পাকিস্তানের সাথে সকল ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার মত তার।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভয়াবহ আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) অন্তত ৪০ জন সদস্যের। হামলার পর নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের আহ্বানই জানিয়ে বসেছিলেন গৌতম গম্ভীর।
এক টুইট বার্তাতে তিনি লেখেন, ‘হ্যাঁ, আসুন বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাথে কথা বলি। হ্যাঁ, আসুন পাকিস্তানের সাথে কথা বলি। কিন্তু এই সময়ে এসে কথোপকথন টেবিলের উপর হতে পারে না। অনেক হয়েছে, এবার যুদ্ধক্ষেত্রে আলোচনার সময় এসেছে।’
এই নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। নিহতদের স্মরণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সামরিক টুপি পড়ে খেলতে নেমেছিল ভারত। খেলার মাঠে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে ভারত, এমন দাবিতে ভারতের শাস্তি চেয়েছিল পাকিস্তান। আইসিসি সে দাবিতে সাড়া দেয়নি।
এ নিয়ে আবার মুখ খুলেছেন গৌতম গম্ভীর। তিনি বলেন, ‘কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির জন্য দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ দীর্ঘদিন বন্ধ৷ পুলওয়ামা কাণ্ডের পর এবার আইসিসির টুর্নামেন্টও পাকিস্তানকে বয়কট করুক ভারত৷ বিশ্বকাপ হোক, এশিয়া কাপ বা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, সব টুর্নামেন্টেই পাকিস্তানকে একঘরে করুক ভারত৷’
আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তানের বিপক্ষে না খেলতে চাইলে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় পয়েন্ট পাবে পাকিস্তান।
সে বিষয়ে গম্ভীরের মন্তব্য, ‘বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেলার কারণে পয়েন্টে পিছিয়ে পড়ে সেমিফাইনাল বা ফাইনাল মিস হতে পারে৷ দেশবাসীর সেই সময় ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়ানো উচিত৷ সৈনিকদের আত্মত্যাগের চেয়ে ক্রিকেট বড় হতে পারে না৷ সেকারণে শুধুই দ্বিপাক্ষিক নয়, পাকিস্তানের সঙ্গে সবধরনের ক্রিকেট সম্পর্কে এবার দাড়ি টানা উচিত৷’
খেলোয়াড়রাও অবস্থান করছে তাদের দেশের স্বার্থে। সরকার চাইলে তবেই পাকিস্তানের বিপক্ষে দেখা যাবে ভিরাট কোহলিদের। না হলে বিশ্বকাপে ১৬ই জুন ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ নিয়ে দ্বিধা থেকেই যাচ্ছে।