এত বর্বর কেন আমরা?


এত বর্বর কেন আমরা?

ইউরো কাপ ফাইনাল চলছে, ২৫ মিনিটের মাথায় দিমিত্রি পায়েটের কড়া ট্যাকেলে মাঠে লুটিয়ে পড়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সেই এক ফাউলে খেলা শেষ। রোনালদো আর নামতে পারেন নি, ফাইনালের মঞ্চটা রাঙাতে পারেননি। তবে সাইড লাইনে দাঁড়িয়ে কোচের ভূমিকায় নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিলেন সি আর সেভেন। তার দল জিতেছে ফাইনাল, উঁচিয়ে ধরেছে কাপ। তার নামের পাশে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক ট্রফি।
সে নিয়ে আজো ট্রল হয়, আজো প্রতিপক্ষরা মজা লুটে নেয়। চিয়ারলিডার বলে অপদস্ত করার ব্যর্থ চেষ্টা চলে। রোনালদো একটি আন্তর্জাতিক ট্রফি জিতেছে তা কি মুছে যাবে? নাকি কেড়ে নেওয়া হবে সে ট্রফি?
গতকালের ঘটনা। ইউরোপা কাপ ফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে মার্সেইয়ের পায়েট গুরুতর ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন। খুব সম্ভবত ফ্রান্সের হয়ে মিস করতে যাচ্ছেন এবারের বিশ্বকাপ। এই নিয়ে চলছে রঙ্গ তামাশা। এক দল যেখানে পায়েটের বিশ্বকাপ মিস করা নিয়ে সহমর্মিতায় ভাসছেন, অন্যদল সেখানে অতীতের স্মৃতিতে বিভোর।
সেই স্মৃতিতে দেখা যায়, এই পায়েটের জন্যই তো রোনালদো ফাইনাল খেলতে পারেনি। তাই তার এহেন ইনজুরিযে উল্লাস করাই যায়। ‘সবাই তার কৃতকর্মের ফল একদিন পাবেই’ – এই উৎসবে মজা নিচ্ছে। বাহ! অবাক লাগে, লজ্জা হয়। একজন যেখানে ইনজুরি নিয়ে ব্যাথা বেদনায় সুখটুকু খুঁজে পাচ্ছে না, আমরা সেখানে এই উল্লাসটা করি। এতটা বর্বর হয়ে যাচ্ছি আমরা, এতটাই নির্লজ্জ হয়ে পড়ছি?
এটি একটি উদাহরণ মাত্র। গত বিশ্বকাপে যখন নেইমার ইনজুরিতে পড়েছিল, কতজনের সেই কি উল্লাস! অথচ সেসময় নেই ক্যারিয়ার নিয়ে সংশয় হয়ে উঠেছিল। এর কিছুদিন পরেই মেসি ইনজুরিতে পরে। মনে আছে, আমার এক ব্রাজিল সমর্থিত বন্ধু কি খুশি মনে আমার ফেসবুক টাইমলাইনে পোস্ট করে। এমন অনেক উদাহরণ দেওয়া যাবে আমাদের সংকীর্ণ মানসিকতার।
এই মেসি-রোনালদো-নেইমার ফ্যানবেজ এক একটা মানসিক রোগীর জন্ম দিচ্ছে। দিচ্ছে বর্বরতার অনেক নিদর্শন। আমি মেসিকে ভালবাসি, কিংবা রোনালদো অথবা নেইমার। তাদের ভালোবাসার প্রথম শর্ত আসে ফুটবলকে ভালোবাসা। অথচ ফুটবলের এই সমর্থকগোষ্ঠী যেন ফুটবলটাকেই ভালোবাসে না।
আর সেই জন্য রাইভাল খেলোয়াড়টি ভালো করলেই প্রশংসা করতে বাঁধে। মনে হয়, তার প্রশংসা করলে সব শেষ। আর কেউ যদি প্রশংসা করে, তাহলেই হামলে পড়তে হয়। ছোট করার প্রতিযোগিতা চলে সর্বত্র। যুক্তি তর্কের বালাই না রেখেই চলে সে প্রতিযোগিতা। অপ্রিয় সেই খেলোয়াড়টা ইনজুরিতে পড়লেও এই কুৎসিত প্রতিযোগিতা থামে না। তখন আরো কুৎসিত হয়ে ওঠে এই লড়াই। নামতে নামতে আরো নীচে নেমে এই সকল ফ্যানবেজ সুন্দর খেলা ফুটবলটাকেই যে কলঙ্কিত করছে।