এশিয়ার শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব



গতকাল এশিয়ার বেশির ভাগ বাজারে চাঙ্গাভাব ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং-উনের আজকের ঐতিহাসিক বৈঠক এবং কয়েকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা বিনিয়োগকারীরা এদিন ইতিবাচক ছিলেন।

জি৭-এর বৈঠকে নেতারা একটি যৌথ ঘোষনার খসড়া চূড়ান্ত করলেও ট্রাম্প তাতে সম্মত হননি এবং বাণিজ্য নিয়ে দ্বন্দ্বে শীর্ষ সম্মেলনের চেয়ারম্যান, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে অসততার দায়ে অভিযুক্ত করেন।

ট্রাম্পের এ প্রতিক্রিয়ায় সোমবার সকালে নতুন করে বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কায় শেয়ারবাজারগুলোয় একটু মন্দাভাব দেখা যায় এবং একপর্যায়ে এসঅ্যান্ডপি-৫০০ সূচকে প্রায় দশমিক ৩ শতাংশ পতন হয়।

তবে উত্তর কোরিয়া নিয়ে সংকট নিরসনের সম্ভাবনায় বাজারে আশাবাদ ছিল। সুমিতমো মিতসুই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলি মাসাহিরো ইচিকাওয়া বলেন, জি৭-এ যা হয়েছে তা নিয়ে আগে থেকেই কিছুটা আশঙ্কা ছিল। তবে বাণিজ্য নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকলেও উত্তর কোরিয়া বিষয়ে দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য ছিল বলেই মনে হচ্ছে।

ফলে টোকিওর বাজার দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির মাধ্যমে দিন শেষ করে। হংকংয়ের বাজারে দশমিক ৩ শতাংশ এবং সিউলের বাজার দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধির মাধ্যমে সপ্তাহের প্রথম দিনটি শেষ করে।

সিঙ্গাপুর, ওয়েলিংটন ও ম্যানিলার বাজারে সূচক বৃদ্ধি পায়। তাইপের বাজার ছিল স্থিতিশীল। সরকারি ছুটির কারণে সিডনির বাজার বন্ধ ছিল এবং সাংহাইয়ে সূচক দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পায়।

ট্রাম্প ও কিম আজ সিঙ্গাপুরে এক ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। এ বৈঠকের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে শত্রুতা চলে আসা রাষ্ট্র দুটির মধ্যে তিক্ততা কমে আসার পাশাপাশি পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কোনো কোনো বিশ্লেষক এ বৈঠকের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপিয়ে দেয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সম্ভাবনা আছে বলেও ধারণা করছেন।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ এশিয়া অর্থনীতিবিদ গ্যারেথ লেদার এক বার্তায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে যদি কোনো চুক্তি করতে হয়, সেজন্য অনেক বাধা দূর করতে হবে। সর্বাগ্রে দুই পক্ষের মধ্যে বিশ্বাসের ঘাটতি কমিয়ে আনতে হবে। তবে দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়নে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। ফলে উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সম্ভাবনা কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পেয়েছে।