বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে সৃষ্ট পরিস্থিতি সামাল দিতে আক্রান্ত অনেক দেশই শিল্প-কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সীমিত করে এনেছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। ফলে সংক্রমিত অনেক দেশের শিক্ষার্থীদের সময় কাটছে বাড়িতেই।
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো বলছে, ভাইরাসটির প্রভাবে বিশ্বের ৩০ কোটির মতো শিক্ষার্থীর স্কুলে যাওয়া বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে সংক্রমিতের সংখ্যা ৯৫ হাজার ছাড়িয়েছে। মারা গেছে ৩ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ। বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে সংক্রমিতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ৪০৯, মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ১২ জনের।
জাতিসংঘের শিক্ষাবিষয়ক ইউনেস্কো বলছে, নভেল করোনাভাইরাস মোকাবেলায় আক্রান্ত দেশগুলো প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা। এরই মধ্যে বিশ্বের ১৩টি দেশে পুরোপুরি স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। আর নয়টি দেশে স্থানীয় পর্যায়ে স্কুল বন্ধ রাখা হচ্ছে।
বিশ্বের প্রায় ২৯ কোটি ৫ লাখ শিশুর ওপর এর প্রভাব পড়েছে। কভিড-১৯ মোকাবেলায় সর্বশেষ স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালি। ইউরোপের দেশটিতে গতকাল পর্যন্ত সংক্রমিতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৯। মারা গেছে ১০৭ জন।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় গত বুধবার থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। চীনের বাইরে সংক্রমিত দেশের তালিকায় শীর্ষে থাকা দক্ষিণ কোরিয়াও ২৩ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে। দেশটিতে গতকাল পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছে ৬ হাজার ৮৮ জন। আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের। এছাড়া জাপানের প্রায় সব স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে আগামী এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
স্কুল বন্ধ রেখেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানও। দেশটিতে সংক্রমিতের সংখ্যা প্রায় তিন হাজারে চলে এসেছে। আর ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়ে মারা গেছে ১০৭ জন। অস্থায়ী ভিত্তিতে সংক্রমিত অনেক দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হচ্ছে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

