করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে গণপরিবহনে ঝুঁকির মাত্রা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রদান করা হয়েছে।
বাস-ট্রেন
করোনাভাইরাস ঠিক কিভাবে ছড়িয়ে পড়ে তা কিন্তু এখনো অজানা। কিন্তু এ জাতীয় অন্য ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির স্পর্শ, পাশে বসার মাধ্যমে ছড়ায়। তবে করোনাভাইরাস বাতাসে ছড়ায় না।
সে কারণে ট্রেনে যাতায়াত করলে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের ঝুঁকি থাকে। সেখানে বিভিন্ন রুটের যাত্রী দীর্ঘ সময় ধরে পাশাপাশি বসে থাকে। তাদের মধ্যে কে, কবে কার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে তা একেবারেই অজানা।
ট্রেন স্টেশনগুলোতেও ব্যাপক ভিড় থাকে। ট্রেনের জন্য আগে থেকেই সেখানে যাত্রীরা অবস্থান করে। সেটাও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। এমনকি বাসে কিংবা ট্রেনের বগিতে স্বল্প সংখ্যক যাত্রী থাকলেও ঝুঁকি থাকে। কারণ, সেখানকার পরিবেশ এবং বাতাস প্রবেশ ও বাইরের ব্যবস্থা কেমন, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহারের জিনিসপত্র এবং বসবাসের স্থানে করোনার জীবাণু লেগে যায়। কোনো ধাতব পদার্থে করোনার জীবাণু পড়লে অন্তত ৯ ঘণ্টা বেঁচে থাকতে পারে। আর কাপড়ে লাগলে এটি বাঁচতে পারে অন্তত ১১ ঘণ্টা। যদিও জায়গাটি জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করলে ঝুঁকি কমে যায়।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচতে আক্রান্তদের থেকে দূরে থাকতে হবে। গণপরিবহনে মাস্ক ব্যবহার করা জরুরি। বিশেষ করে ভিড় যে সময় বেশি থাকে, তখন চলাচল না করলে ভালো।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারাও বলছেন, গণপরিবহন ব্যবহার করলেই করোনা আক্রান্ত হবে, এরকম কোনো বিষয় নেই। কারণ, করোনাভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না। আর এই ভাইরাস যে কোনো মাস্কে আটকে যায়। চোখ, নাক ও মুখে হাত না দিলেই ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়।
বিমান
বিমানে একসঙ্গে চলাচল করলে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়বে। কারণ, বিমানে একই বাতাস সবাই গ্রহণ করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে কোনো অফিসের তুলনায় বিমানের বাতাস নিরাপদ বিশেষ করে বাস ও ট্রেনের তুলনায় নিরাপদ।

