বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বজনেরা তার সঙ্গে কারাগারে গিয়ে দেখা করেছেন । পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে খালেদা জিয়ার পরিবারের চার সদস্য গিয়ে দেখা করে এসেছেন।
আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার, তাঁর সহধর্মিণী কানিজ ফাতেমা ও ছেলে অভিক এস্কান্দার এবং খালেদা জিয়ার বোন সেলিনা ইসলাম কারাগারে প্রবেশ করেন। বেলা পাঁচটার দিকে তাঁরা বের হয়ে ওই এলাকা ত্যাগ করেন। তবে এ সময় কারাগারের সামনে অপেক্ষারত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়নি।
এর আগে বেলা তিনটার দিকে খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি চান। অনুমতি পাওয়ার পর তাঁরা কারাগারে প্রবেশ করেন। খালেদা জিয়ার স্বজনদের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে প্রবেশ করানো হয়।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। বয়স ও সামাজিক অবস্থান দিক বিবেচনা করে এ রায় দিয়েছে আদালত।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।
জেলের পাশাপাশি প্রত্যেককে দুই কোটি দশ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
তারেক রহমানসহ মামলার অপর পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি চার আসামি হলেন, সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সাংসদ ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান। এর মধ্যে পলাতক আছেন তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান।
এর আগে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে বের হন খালেদা জিয়া। আদালতে পৌঁছান বেলা পৌনে দুইটার দিকে।
এ মামলার আসামি ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছে সকালেই। বকশীবাজার মোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক সাংসদ ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জিয়াউর রহমানের বোনের ছেলে মমিনুর রহমান। মামলায় শুরু থেকে পলাতক আছেন তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান। গত ২৫ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ঢাকার বিশেষ জজ-৫ আদালতের বিচারক আকতারুজ্জামান রায়ের জন্য দিন ঠিক করেন।
রাজধানীর পুরান ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে আদালত বসেছেন। আশপাশ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। এ মামলার আসামি ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। বকশীবাজার মোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ছয়জন আসামি। এই ছয় আসামির বিরুদ্ধে যেসব ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে, এতে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন, সর্বনিম্ন যেকোনো মেয়াদে কারাদণ্ড। এর সঙ্গে আর্থিক কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
বিদেশ থেকে পাঠানো ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা ক্ষমতার অপব্যহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করার অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুদক এই মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া, তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন দুদকের উপপরিচালক হারুন অর রশীদ। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আদালত খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ১০৯ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ গঠন করেন।
আরও পড়ুন; খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড
আজ খালেদা জিয়ার রায়; দেশজুড়ে উত্তেজনা
খালেদার রায়ের দিন ঢাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ
