সব মানুষই শিশুবেলায়, মানে যখন বুঝতে শেখে। ধীরে ধীরে শরীর-গড়নে বড় হতে থাকে। বুদ্ধিমত্তায়ও বড় হতে থাকে। সবারই ছেলেবেলায় বড় হওয়ার একটা স্বপ্ন থাকে। তখন থেকেই স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখে। তেমনই বড় হতে চায়, যখন কেউ আর তাকে শাসন করবে না। তারপর আমরা বড় হই।
একসময় স্বাধীনতাও আসে। কেউ আর সেভাবে শাসন করে না। এক সময় আনুষ্ঠানিক পড়ালেখাও শেষ হয়। আমরা সঙ্গী পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠি। বিয়ের মাধ্যমে সঙ্গীও একসময় পাওয়া হয়।
তারপর? বাড়ে দায়িত্ববোধ। পৃথিবীতে নতুন প্রজন্ম আসে, সন্তান হয়। এই যে চিন্তার শুরু, তা আর কখনো শেষ হয় না। তখন জীবনে অর্থটাই প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। অর্থবিত্ত ছাড়া সবকিছুই কেমন কেমন লাগে। অর্থ না থাকলে, কষ্টও হয় ভীষণ।
তারপর এক সময় বয়স বাড়ে। কর্মক্ষমতা কমে কিন্তু সার্বিকভাবে খরচ বাড়ে। তারও পরে শরীরে রোগবালাই বাসা বাঁধে। শুরু হয় মৃত্যুর ক্ষণ গণনা। এর মাঝে কখনো কী মনে হয় না, বড় না হয়ে, ছেলেবেলা আর ছাত্রজীবনই ভালো ছিলো? শুধু শুধুই বড় হতে চেয়েছি, স্বাধীনতা চেয়েছি!
অনেকেই একমত হবেন না জেনেই বলি; এই যে জীবন চক্র, সবার কেমন লাগে জানি না, আমার কেন যেন খুব বেশি ভালো লাগে না। তবে এই জীবন চক্র ইসলাম সম্মত। এটা মেনেই মানুষকে চলতে হয়। আর এই জীবন চক্র, সারা পৃথিবীতে প্রায় একই রকম। কিন্তু আমার কেবলই মনে হয়, মানুষ হিসেবে আমাদের সবারই আরো অনেক কিছুই করার আছে…।
মাসুম হোসেন ভূঁইয়া
জ্যেষ্ঠ বার্তাকক্ষ সম্পাদক, সময় সংবাদ
ইমেইল: masumlabib@gmail.com
আরও পড়ুন;
“ভুলভ্রান্তি এবং মানুষ”
“বাহ্যিক সৌন্দর্যই কী মুখ্য?”
