কুমিল্লায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান



প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক কুমিল্লা সফরে গেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার সকাল থেকেই তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়কে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয় পুরো জেলাজুড়ে।

শনিবার (১৬ মে) সকাল থেকেই কুমিল্লার প্রবেশদ্বার দাউদকান্দি থেকে শুরু করে নগরীর প্রান্ত পর্যন্ত ছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং মানুষের চোখে-মুখে উৎসবের আমেজ। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে যখন প্রধানমন্ত্রীর মোটরশোভাযাত্রাটি দাউদকান্দির ঐতিহাসিক মেঘনা-গোমতী সেতু এলাকা অতিক্রম করে, তখন মহাসড়কের দুই পাশে অপেক্ষমাণ জনতা করতালি ও স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে তোলে।

হাতে রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন, জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ দেশের নতুন সরকারপ্রধানকে একনজর দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। ধীরগতিতে অগ্রসর হওয়া প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে কুমিল্লার অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র নিমসারে পৌঁছায়। সেখানেও স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সর্বস্তরের মানুষ তাঁকে ফুল ছিটিয়ে স্বাগত জানান। এরপর দুপুর সোয়া ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর কুমিল্লার প্রবেশমুখ আলেখাচর বিশ্বরোড এলাকা অতিক্রম করার সময় ভিড় সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।

আরও পড়ুনঃ ক্লান্তিতেও কাজে মনোযোগ ধরে রাখার ৬টি অব্যর্থ কৌশল

তারেক রহমানের এই কুমিল্লা সফরকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাজনীতির জন্য একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম কুমিল্লা সফর, যা স্থানীয় জনগণের মাঝে দীর্ঘদিনের এক রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার অবসান ঘটিয়েছে।

প্রবীণ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সফর নয়, বরং এটি তৃণমূল পর্যায়ে নতুন সরকারের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এবং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলের মানুষের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের একটি মহতী উদ্যোগ। মহাসড়কের দুই ধারে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক রূপান্তরে কুমিল্লার জনগণের গভীর প্রত্যাশা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাতে কোনো ধরনের তীব্র যানজটের সৃষ্টি না হয়, সেজন্য জেলা প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশ আগে থেকেই বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। নেতা-কর্মীরা সড়কের মূল অংশ ছেড়ে দুই পাশে অবস্থান নেওয়ায় যান চলাচল ধীরগতির হলেও সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েনি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শত শত সদস্য মহাসড়কের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে মোতায়েন থেকে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।