ক্রিকেট বিশ্বকাপে নাইজেরিয়া


paperslife

নাইজেরিয়া নামটা শুনলেই ফুটবলের কথাই মনে পড়ে সবার আগে। সুপার ঈগলস খ্যাত নাইজেরিয়া ফুটবল বিশ্বকাপে পরিচিত এক মুখ। অন্তত এত দিন তাই-ই ছিল। সেই নাইজেরিয়া খেলছে ক্রিকেট, এবং জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপে।

না, মূল বিশ্বকাপে নয়। আফ্রিকান অঞ্চলের বাছাইপর্ব থেকে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের টিকিট অর্জন করে নিয়েছে নাইজেরিয়া। আগামী বছর অনুষ্ঠিত যুবাদের ক্রিকেট বিশ্বকাপে দেখা যাবে ফুটবল দুনিয়ার সুপার ঈগলদের।

২০০২ সালে আইসিসির সদস্যপদ পায় নাইজেরিয়া। তখন দেশটিতে খেলার উপযোগী মাঠের সংখ্যা খুব কম ছিল। আইসিসি, দেশের বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকমহল আর সরকারের সাহায্য নিয়ে ধীরে ধীরে উঠে এসেছে নাইজেরিয়ার ক্রিকেট।

অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেই ২০২০ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের চূড়ান্তপর্বে জায়গা করে নিল দেশটি। নাইজেরিয়া ক্রিকেট ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডামস উকেনে বলেন, ‘আমাদের ক্রিকেট এমন উচ্চতায় পৌঁছেছে যেখানে এর আগে আমরা কখনো যেতে পারিনি।’

কাল অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আফ্রিকান অঞ্চল বাছাইপর্বের শেষ দিনে সিয়েরা লিওনকে ২ উইকেটে হারিয়ে চূড়ান্তপর্বে নিজেদের নাম লিখিয়েছে নাইজেরিয়ার যুবারা। ছোটদের বিশ্বকাপ, তবুও তো বিশ্বকাপ। তাই তাদের আনন্দে বাঁধ ছিলনা। বিজয়ের পর নিজেদের মত করেই উদযাপন করে আফ্রিকার দেশটি।

আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩৮ রানে গুটিয়ে যায় সিয়েরা লিওন অনূর্ধ্ব-১৯ দল। তাড়া করতে নেমে ৮৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপদেও পরেছিল নাইজেরিয়া। শেষ পর্যন্ত ৩৬ বল হাতে রেখে ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় নাইজেরিয়া।

নাইজেরিয়ার ক্রিকেট দলকে বলা হয় ‘ইয়োলো গ্রিনস’। মূল দলকে ‘সিনিয়র ইয়োলো গ্রিনস’ এবং যুব দলকে ‘জুনিয়র ইয়েলো গ্রিনস’ হিসেবে ডাকা হয়।

নাইজেরিয়ায় ব্যাট-বলের ইতিহাস কিন্তু বেশ পুরোনো। ব্রিটিশদের হাত ধরে খেলাটি জায়গা পেয়েছে নাইজেরিয়ায়। দেশটিতে স্বীকৃত প্রথম প্রীতি ম্যাচ খেলা হয়েছে ১৯০৪ সালে। সেই ম্যাচে নাইজেরিয়াকে ২২ রানে হারিয়েছিল তখনকার গোল্ড কোস্ট (ঘানা)। ওই ম্যাচের প্রায় ১১৫ বছর পর এবারই প্রথমবারের মতো খেলাটির কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে জায়গা করে নিল নাইজেরিয়া।