খুলনা সিটি করপোরেশনের নতুন নেতৃত্ব বেছে নিচ্ছেন খুলনার ৪ লাখ ৯৩ হাজার ভোটার। কোনো বিরতি ছাড়াই বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। এরপর ফল ঘোষণা। জানা যাবে—কে বিজয়ী হয়ে খুলনার নগরপিতা হচ্ছেন।
আজ মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে খুলনা সিটি করপোরেশনে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ।
নির্বাচনে মেয়র পদে এবার পাঁচজন প্রার্থী। আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক নৌকা এবং বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুজ্জাম্মিল হক হাতপাখা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মিজানুর রহমান বাবু কাস্তে এবং জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুর রহমান লাঙল প্রতীকে মেয়র পদে লড়ছেন।
এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো ইউনুচ আলী বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট করার জন্য তাঁদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছেন ২৪ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য। সাধারণ প্রতিটি কেন্দ্রে এই সংখ্যা ২২ জন করে। এর বাইরে পুলিশের ১১টি স্ট্রাইকিং দল (প্রতিটিতে ১০ জন করে), ৭০টি ভ্রাম্যমাণ দল (প্রতিটিতে ৭ জন করে), ১৬ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ৩২টি ভ্রাম্যমাণ দল, ৩১ জন নির্বাহী হাকিম ও ১০ জন বিচারিক হাকিম দায়িত্ব পালন করছেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাত মাস আগে এ নির্বাচনকে ঘিরে সব মহলের নজর এখন খুলনার দিকে। ক্ষমতায় এবং ক্ষমতার বাইরে থাকা প্রধান দুই দলের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনও এ নির্বাচনে নিজেদের প্রমাণ করতে চায়। খুলনার ভোটে নিজেদের প্রমাণের চ্যালেঞ্জ বিএনপির সামনে। অন্যদিকে জনগণের সমর্থন অটুট আছে বলে দাবি করে আসা আওয়ামী লীগের সামনেও তা দেখানোর চ্যালেঞ্জ। আর জাতীয় নির্বাচনের বছরে নির্বাচন কমিশন নিজেদের দক্ষতা, নিরপেক্ষতা প্রমাণের চ্যালেঞ্জের সামনে।
এদিকে ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ফাতিমা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ করেছেন নৌকা প্রতীকের সমর্থকেরা। আজ মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে সকাল সোয়া নয়টার দিকে ৪০ থেকে ৫০ জন যুবক এই কেন্দ্রের এক নম্বর বুথে জোর করে ঢুকে নৌকা ও ঘুড়ি প্রতীকে সিল মারা শুরু করেন। এরপর ওই বুথের ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হয়। খবর পেয়ে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু সেখানে যান । তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
ওই বুথের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রিতেশ বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘৪০ থেকে ৫০ জন যুবক জোর করে ঢুকে প্রায় ৪৫টি ব্যালটে সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়ে দিয়েছে। আমি আনসার ও পুলিশ ডেকেও তাদের ঠেকাতে পারিনি।’ তিনি জানান, এই বুথে এর আগে ৫৫টি ভোট গ্রহণ করা হয়।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছ থেকে এই তথ্য জেনে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন।
প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াউল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এ ঘটনাটি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।’ এই ব্যালটগুলো বাতিল করে দেওয়া হবে বলে মঞ্জুকে জানান তিনি।
এদিকে কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থীর অবস্থানকালে বাইরে নৌকার সমর্থেরা জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা নজরুল ইসলাম মঞ্জুর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন। এই বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিলেন ঘুড়ি প্রতীকের কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠুই ছিল। তিনি এসে গ্যাঞ্জাম শুরু করছেন।’ তিনি অভিযোগ করেন, নজরুল ইসলাম মঞ্জু নৌকায় সিল মেরে তা ভিডিও করে সাংবাদিকদের দেখাচ্ছেন।
এবারের নির্বাচনে ভোটার ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। ভোটকেন্দ্র ২৮৯টি। দুটি ওয়ার্ডের দুটি ভোটকেন্দ্রে ভোট হচ্ছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। সেখানে মেয়র প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক এবং সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রতীকে বোতাম চেপে ইভিএমে ভোট দেবেন ভোটাররা।
