খেলাফি ঋণে বাংলাদেশ শীর্ষে


paperslife

খেলাফি ঋণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের বিপরীতে বাংলাদেশের চিত্র ভিন্ন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০১০ সালে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। কিন্তু চলতি বছরের মার্চ শেষে এ হার ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশে ঠেকেছে।

অথচ বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি বিশ্বব্যাংকের উপাত্ত বলছে, ২০১০ সালে সারা বিশ্বের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের গড় হার ছিল ৪ শতাংশের বেশি। ২০১৭ সালে এ হার ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০১৮ সালেও এ হার নিম্নমুখী ছিল।

এমন চিত্রই পাওয়া গেছে, বিশ্বব্যাংক, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের তথ্য-উপাত্ত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘সিইআইসিডাটা’র ওয়েবসাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে খেলাপি ঋণের উচ্চহার ছিল পাকিস্তানে। ২০১৬ সালেও দেশটির ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ছিল বিতরণকৃত ঋণের ১১ শতাংশের বেশি। চলতি বছরের মার্চ শেষে তা ৮ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে।

তথ্য-উপাত্ত বলছে, এশিয়ার বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে খেলাপি ঋণের হার বাড়ছিল ভারতে। ২০১৮ সালে দেশটির ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ ১১ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু নানা উদ্যোগে তা কমে এসেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে দেশটির ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশে।

নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বাংলাদেশেও। তার পরও দেশে খেলাপি ঋণের হার না কমে উল্টো বাড়ছে। চলতি বছরের মার্চ শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার প্রায় ১২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

শুধু এশিয়া নয়, আমেরিকা, ইউরোপ ও আফ্রিকার সিংহভাগ দেশের খেলাপি ঋণ নিম্নমুখী। অধিকাংশ দেশের ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণই ৫ শতাংশের নিচে।

কেবল জাতিগত সহিংসতা, যুদ্ধবিধ্বস্ত, সাম্রাজ্যবাদী বৃহৎ শক্তিগুলোর অর্থনৈতিক অবরোধ ও আধিপত্যবাদের শিকার হওয়া কিছু দেশ এবং ক্ষুদ্র অর্থনীতির কয়েকটি দেশের খেলাপি ঋণ দুই অংকের ঘরে।

অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ও হার কমানোর বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য, ব্যাংকগুলো থেকে বিতরণকৃত ঋণ খেলাপি হয়ে যাচ্ছে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে। যদি খেলাপি ঋণকে দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় তবে ফিরতে পারে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা।