মুক্ত গণমাধ্যম ও গণতন্ত্রের স্বার্থে ফ্যাসিবাদী মানসিকতা পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীতে সাংবাদিকদের এক ইফতার মাহফিলে তিনি বলেন, অতীতের মতো সাংবাদিকদের ওপর আর যেন কেউ চড়াও না হয়, তা নিশ্চিত করা সবার নৈতিক দায়িত্ব।
গণতন্ত্রের নতুন পথরেখা ও মুক্ত সংবাদমাধ্যম
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত ইফতার ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমান রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা যদি সত্যিকারের উদারপন্থি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চাই, তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। ফ্যাসিস্টদের মতো আচরণ করে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার দিন শেষ হয়ে গেছে।”
মন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপটটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত দেড় দশকে বাংলাদেশের গণমাধ্যম যে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে, তার পুনরাবৃত্তি রোধ করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা মামলা দিয়ে সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা আর বরদাশত করা হবে না।
ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ: বৃহস্পতিবার বসছে নতুন সংসদ
আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে। মন্ত্রী মির্জা ফখরুল জানান, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সংসদ এদিন বসতে যাচ্ছে। তিনি এই সংসদকে দেশের সব রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রে পরিণত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ফখরুল বলেন, “আগামীকাল একটি ইতিহাস রচিত হবে। একটি জবাবদিহিতামূলক সংসদীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য, যেখানে জনগণের প্রতিটি সমস্যার সমাধান খোঁজা হবে আলোচনার টেবিলে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন গত ১৭ বছরের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিগত বছরগুলোতে অসংখ্য সাংবাদিক হামলা, মামলা এবং চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ ছিল।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা সত্য লিখুন। সেই সত্য যেন কোনো পেশীশক্তি বা ক্ষমতার দম্ভে ঢাকা না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের কাজ। ভবিষ্যতে যেন কোনো সাংবাদিককে তার লেখনীর জন্য আদালতের বারান্দায় দৌড়াতে না হয়, সে বিষয়ে আমাদের সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।”

