ঘরে থাকার নির্দেশনা মানতেই চায় না মানুষ: প্রধানমন্ত্রী


bdnews24 bangla newspaper, bangladesh news 24, bangla newspaper prothom alo, bd news live, indian bangla newspaper, bd news live today, bbc bangla news, bangla breaking news 24, prosenjit bangla movie, jeeter bangla movie, songsar bangla movie, bengali full movie, bengali movies 2019, messi vs ronaldo, lionel messi stats, messi goals, messi net worth, messi height

দেশে চলমান করোনার সংক্রমণের কারণে সাধারণ মানুষকে দেয়া সরকারের নির্দেশ মানছে না বলে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন মানুষকে করোনা থেকে দূরে রাখতে বার বার ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে কিন্তু তা মানুষ মানতে চাচ্ছে না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিনরাত কষ্ট করছে। তারপরও মানুষ নিজেদের ভালো বুঝতে চাইছেন না।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের সপ্তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের চেষ্টা হচ্ছে মানুষের জীবনটাও যেন চলে, তারা যেন সুরক্ষিত থাকে সেদিকে লক্ষ রেখেই আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

দেশবাসীকে আহ্বান জানবো, সংসদ সদস্যসহ নির্বাচিত প্রতিনিধি আছেন তাদের সবাইকে বলবো স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতামূলক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, সবাই দয়া করে তা মেনে চলবেন।

এই নির্দেশনা মেনে চললে নিজে যেমন সুরক্ষিত থাকতে পারবেন অপরকেও সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। কারও জীবন ঝুঁকিতে পড়বে না।

মসজিদে না গিয়ে ঘরে বসেই এবাদত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঘরে বসে আল্লাহর দোয়া কামনা করেন। আল্লাহ তা কবুল করবেন। আল্লাহ তায়ালার শক্তি যে সবচেয়ে বড় শক্তি আমরা করোনাভাইরাসের শক্তি দেখেই বুঝতে পারি।

অস্ত্র গোলাবারুদ কিছুই কাজে লাগছে না। সারাবিশ্ব করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পেয়ে আবার যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে, সেই কামনা করি।

সবসময় হতাশ হওয়া বা ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সাহসের সঙ্গে এটা মোকাবিলা করতে হবে। যে যেখানে আছি, যার যার অবস্থানে থেকে এটা মোকাবিলা করতে হবে। সেই প্রস্তুতি সব সময় থাকতে হবে।

সংসদে যারা এসেছে সবাই মাস্ক পরে এসেছেন, কিন্তু বাইরে যারা আছেন তারা কী অবস্থায় আছেন এ ব্যাপারটা দেখতে হবে। এদের সুরক্ষিত করার ব্যবস্থা করা উচিত। কিন্তু কেন যেন মানুষ সেটা মানতেই চায় না।

করোনার পরিস্থিতি কতদিন থাকবে সেটা এখন বলা যাচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কতদিন এই অবস্থা থাকবে তা কেউ জানে না। সারাবিশ্বই এটা বলতে পারছে না।

এটা নিয়ে অনেক গবেষণা হচ্ছে, চিন্তা হচ্ছে অনেকে বলছেন শীতকালে বেশি হবে, গরমকালে বেশি থাকবে না, এখন বলা হচ্ছে গরমেও থাকবে। এর স্থায়িত্ব কতক্ষণ- একটা অদ্ভুত অবস্থা সারাবিশ্বে।

বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সারা বিশ্বে অনেক শক্তিশালী দেশ আছে, তাদের শক্তিশালী অস্ত্রও আছে। কিন্তু এর কোনও কিছুই কাজে লাগলো না।

একটা ভাইরাস যেটা চোখে দেখা যায় না তার কারণে সারা বিশ্ব স্থবির। সারা বিশ্বের মানুষ ঘরে বন্দি। এ ধরনের অদ্ভুত পরিস্থিতিতে বোধহয় আর কখনো কেউ পড়েনি।

বিভাগীয় শহর জেলা ও উপজেলা শহরের হাসপাতালগুলোতে পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে বলেও সংসদকে জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, মোট আইসোলেশন ওয়ার্ড সংখ্যা ৬২০০।

এছাড়া ভবিষ্যতের জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি জেলা হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি কিছু বেসরকারি হাসপাতালকে অনুরোধ করা হয়েছে যদি রোগীর সংখ্যা বাড়ে তাহলে সেখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা করা।

করোনার অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবেলায় গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সংকটটা যাতে কাটিয়ে উঠতে পারি তার জন্য আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।

অর্থনৈতিকভাবে যে নেতিবাচক দিনগুলো সামনে আসতে পারে সেগুলো বিবেচনা করে আমরা কর্মসূচি নিয়েছি। দেশের সকল শ্রেণির মানুষের কথা বিবেচনা করে প্যাকেজ তৈরি করা হয়েছে।

প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ আমরা দিয়েছি। অর্থনীতি যাতে গতিশীল থাকে যার জন্য আমরা তিন ভাগে এই সুযোগটা দিচ্ছি।

তিনি বলেন, আমাদের পরিবারগুলো যাতে খাদ্য কষ্ট না পায় সেজন্য আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। দুর্ভিক্ষ যদি বিশ্বব্যাপী হয় আমাদের দেশের মানুষ যাতে দুর্ভিক্ষে না পড়ে তার জন্য আগাম তিন বছরের বিষয়টি মাথায় রেখেই প্যাকেজ ঘোষণা করেছি।

তিনি বলেন, আমাদের খাদ্যের অভাব নেই, অভাব হবেও না। কৃষি উৎপাদন যদি অব্যাহত থাকে তার জন্য আমরা নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। ৪ শতাংশ হারে আমরা ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।