মঙ্গলবার এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলো আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। একই দিনে ইউরোপের বাজারও শক্তিশালী সূচনা করেছে। আর গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের বাজার শক্তিশালী অবস্থানে শেষ করেছে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প আমদানিকৃত ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর উচ্চহারে শুল্কারোপ করতে যাচ্ছেন— এ ঘোষণা দেয়ার পর নিউইয়র্ক থেকে সিডনি পর্যন্ত বিশ্বের সব প্রান্তের শেয়ারবাজারগুলো বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কায় টালমাটাল অবস্থার মধ্যে যায়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধি করতে পারে এবং মন্দার সময়ে দেয়া প্রণোদনা কর্মসূচিগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো গুটিয়ে নিতে পারে— এ আশঙ্কা আগে থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিরাজ করছিল।
তবে সোমবার এশিয়ার বাজারে পতনের পর ট্রাম্প তার মাত্রাতিরিক্ত সুরক্ষা নীতি থেকে সরে আসবেন— এ আশায় নিউইয়র্কের বিনিয়োগকারীরা উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন।
ওএএনডিএর এশিয়া প্যাসিফিক বাণিজ্যের প্রধান স্টিফেন ইনেস বলেন, শিল্প খাতের নেতাদের চরম প্রতিক্রিয়া, আন্তর্জাতিক বাজার এবং এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের বিশ্বস্ত সদস্যদের উষ্মা প্রকাশের পর ক্রমেই আশাবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে যে, সামনেই বড় আকারের শুল্ক রেয়াত আসতে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বিনিয়োগকারীরা সতর্কতার সঙ্গে আশাবাদী অবস্থায় আছেন।
একই সঙ্গে অবশ্য তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ঠাণ্ডা মাথার লোকেরা এ অবস্থা আয়ত্তে আনবে এটি ভাবা অতি আশাবাদ। কারণ বাণিজ্যনীতি সংস্কার ছিল ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার ভিত্তি। সুরক্ষাবাদী ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ট্রাম্প প্রচারণার সময় প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিকদের যে বৈশ্বিক বাণিজ্য চুক্তিগুলো ক্ষতি করছে, তিনি সেগুলোর রাশ টেনে ধরবেন।
গত সোমবার ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান তিনটি সূচকই ১ থেকে ১ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মঙ্গলবার সেগুলোর প্রভাব ছিল এশিয়ায়।
টোকিওর সূচক ১ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাঁচ মাসের সবচেয়ে নিম্ন অবস্থা থেকে নিক্কেই সূচকও একই পরিমাণে এদিন বৃদ্ধি পেয়েছে। কোবের প্রধান নির্বাহী হিরোয়া কাওয়াসাকি পদত্যাগ করছেন— এ ঘোষণার প্রাক্কালে কোবের শেয়ারের দামও সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ ইস্পাত রফতানি করে। ট্রাম্পের ঘোষিত শুল্কারোপে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে কোরিয়াই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পর কোরিয়ার শেয়ারবাজারের যে পতন হয়েছিল, মঙ্গলবার সেটি পুষিয়ে গেছে। এদিন সিউলের সূচক ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়।
হংকংয়ের সূচক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে সিউলের মতো সিডনি, সিঙ্গাপুর ও তাইপেতেও সূচক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মঙ্গলবারের শুরুতে ইউরোপীয় বাজারও ছিল চাঙ্গা। লন্ডনের সূচক বেড়েছে দশমিক ৮ শতাংশ, প্যারিসে দশমিক ৭ শতাংশ এবং ফ্রাংকফুর্টে ১ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্বের সব অঞ্চলে শেয়ারবাজারের চাঙ্গাভাবের পর এখন সবার নজর থাকবে শুক্রবার প্রকাশিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি উপাত্তের ওপর। এ উপাত্ত বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য দেবে।
তবে বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধ এবং শেয়ারবাজারে এর প্রভাব নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হচ্ছে ট্রাম্পের শুল্কবিষয়ক ঘোষণা।
শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিক অনেক নেতা, এমনকি হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের স্পিকার পল রায়ান এবং প্রতিনিধি কেভিন ব্রাডি গত সোমবার ট্রাম্পকে তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য চাপ দেন।
এর ফলে ট্রাম্প তার পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসবেন বলে আশা করছেন অনেক বিনিয়োগকারী। কেউ কেউ ট্রাম্পের শুল্ক হুমকিটি নাফটা চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র যাতে নিজের সুবিধা আদায় করে নিতে পারে, সেই কৌশল হিসেবেও দেখছেন।
তবে পরিকল্পিত শুল্কের হার এবং এগুলো কখন থেকে কার্যকর হবে, সেই বিষয়ে হোয়াইট হাউজের অভ্যন্তরেও অনিশ্চয়তা আছে। সোমবার ট্রাম্প বলেছেন, তিনি পিছু হটবেন না।
এ সপ্তাহের শেষদিকে শুল্ক বিষয়ে ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা। অবশ্য বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কোনো পর্যবেক্ষক বলেছেন, ঘোষণাটি সামনের সপ্তাহেও আসতে পারে।
