মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশটিতে শুরু হচ্ছে ১৪৪৭ হিজরির রমজান। সৌদির পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতও একই দিন থেকে রোজা শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে সৌদি আরবে সূর্যাস্তের পরপরই চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। দেশটির পূর্ব প্রদেশ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত চাঁদ দেখা কমিটি জানায়, আকাশে রমজানের নতুন চাঁদ দৃশ্যমান হয়েছে। এরপর কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ কমিটির যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে—পরদিন থেকেই সিয়াম সাধনার মাস শুরু।
সৌদি আরবে রমজানের চাঁদ দেখার প্রক্রিয়া অত্যন্ত কাঠামোবদ্ধ। দেশজুড়ে বিভিন্ন অঞ্চলে নিযুক্ত আলেম, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও প্রশাসনিক প্রতিনিধিরা নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান নেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য, টেলিস্কোপের সহায়তা এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি মিলিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। এ বছরও সেই প্রথা অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর প্রেসিডেনশিয়াল কোর্ট পৃথক বিবৃতিতে জানায়, বুধবার থেকেই দেশটিতে রমজান শুরু হচ্ছে। আমিরাতের চাঁদ দেখা কমিটিও সূর্যাস্তের পর আকাশ পর্যবেক্ষণ করে নতুন চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করে। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্তত দুটি প্রধান দেশে একই দিনে রোজা শুরু হচ্ছে।
ইসলামি ক্যালেন্ডার চাঁদভিত্তিক হওয়ায় রমজান মাসের সূচনা নির্ভর করে চাঁদ দেখার ওপর। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রোজা শুরুর তারিখ এক-দুই দিন এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে সৌদি আরবের ঘোষণাকে অনেক মুসলিমপ্রধান দেশ অনুসরণ করে থাকে। ফলে এ ঘোষণার আন্তর্জাতিক গুরুত্বও রয়েছে।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে রমজান মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, সংযম ও দানের মাস। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকা ছাড়াও এ মাসে ইবাদত-বন্দেগি বৃদ্ধি, কোরআন তিলাওয়াত এবং দরিদ্রদের সহায়তায় জোর দেওয়া হয়। সৌদি আরবের মসজিদগুলো, বিশেষ করে মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থানগুলোতে লাখো মুসল্লির সমাগম প্রত্যাশিত।

