যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পোশাক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান কেলভিন ক্লেইনের জন্য চীন থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে বাংলাদেশের অনন্ত গ্রুপ। করনাভাইরাসের কারণে চীন থেকে কাঁচামাল আমদানির এ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় হঠাৎ করেই।
সম্প্রতি পুনরায় চীন থেকে চালানটির আমদানি প্রক্রিয়া শুরু করেছে অনন্ত গ্রুপ। এ বিষয়ে বিজিএমইএ পরিচালক অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ জহির বলেন, ছুটি শেষে প্রথমে ৭ ফেব্রুয়ারি চীনের দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। পরে তা ১৬ তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কাপড় সরবরাহকারীরা এখন আমাদের জন্য পণ্য জাহাজীকরণ করবেন বলে জানিয়েছেন। এরই মধ্যে আমাদের চাহিদা অনুযায়ী কাঁচামালের একটি চালান জাহাজীকরণ হয়েছে।
তিনি বলেন, কাঁচামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে তাদের উত্পাদনশীলতা ২০ শতাংশের মতো কমে যাবে। কারণ কারখানার শ্রমিকদের কোয়ারান্টাইন প্রক্রিয়া শেষ হলেই তাদের কাজে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হবে। এ প্রক্রিয়াতেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম অনেকটা বিলম্বিত হবে। এর সুযোগটা নেবে পোশাক পণ্যের ক্রেতারা।
তবে করোনাভাইরাসের প্রভাবে এরই মধ্যে পণ্য জাহাজীকরণ এক সপ্তাহ থেকে এক মাস পর্যন্ত বিলম্বিত হয়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার মাশুল গুনতে হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন পোশাক খাতসংশ্লিষ্টরা।
এমতাবস্থায় চীনের পণ্য সরবরাহকারীরা বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছে। বাংলাদেশের কারখানা মালিকদের চাহিদা অনুযায়ী কাপড় রফতানি কার্যক্রম শুরু করেছে তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পোশাক শিল্পের ওভেন পণ্য প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের অধিকাংশই আমদানি হয় চীন থেকে। ওভেন পণ্যের কাঁচামাল হিসেবে চীন থেকে বছরজুড়েই কাপড় আমদানি হয়। তবে এবার চীনে নতুন বছরের ছুটি চলাকালে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণহানির ব্যাপকতায় সরকারি হস্তক্ষেপে দীর্ঘায়িত হয় ছুটি। স্থগিত হয়ে যায় দেশটি থেকে সব ধরনের আমদানি কার্যক্রম।
বাংলাদেশের রফতানির ৮৪ শতাংশই হয় তৈরি পোশাক। তবে ওভেন ও নিট পোশাক পণ্যের কাঁচামালের উত্স হিসেবে স্থানীয় উত্পাদন সক্ষমতায় ভিন্নতা রয়েছে। নিট পণ্যের প্রয়োজনীয় সুতাসহ অন্যান্য কাঁচামালের ৮৫-৯০ শতাংশই স্থানীয়ভাবে সরবরাহের সক্ষমতা আছে। কিন্তু ওভেন পণ্যের কাপড়ের স্থানীয় উত্পাদন সক্ষমতা মোট চাহিদার ৩৫-৪০ শতাংশ। ফলে ওভেন পণ্যের কাঁচামালের অধিকাংশই আমদানি হয়, আর তা হয় মূলত চীন থেকে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে চীন থেকে আসা কাঁচামাল নিয়ে সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে ওভেন পোশাক রফতানিকারকদের।
বিকেএমইর সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, ২০ ফেব্রুয়ারি বেশকিছু কারখানা চালু হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই আমদানি কার্যক্রমে গতি আসবে।
এছাড়াও, বিজিএমইএ সহসভাপতি ফয়সাল সামাদ বলেন, চীন থেকে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোদমে সচল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হতে আরো প্রায় এক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন। যদিও বিলম্বের পর শুরু হবে এমন বাণিজ্যিক কার্যক্রমসংক্রান্ত নথি সম্পর্কে বিজিএমইএকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। আমদানি কার্যক্রম গতিশীল করতে সংগঠনের পক্ষ থেকে সহায়তা দেয়া হবে। সেইসাথে একটা চায়না ডেস্কও চালু করা হয়েছে।

