চুরি করতে গিয়ে যেতে হলো সিংহের পেটে


Lions-large cats


দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কে এক ব্যক্তির অপমৃত্যু ঘটে সিংহের হাতে। শুধু মাথার খুলি আর পরনের ট্রাউজার পাওয়া গেছে বাকিটা সিংহের পেটে হজম।

এর আগে হাতির পায়ের তলায় পিষ্ট হন তিনি। এই হতভাগ্য ব্যক্তি একজন চোরাশিকারি। গন্ডার শিকারে গত সোমবার দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কে আসে আর এখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।

পার্কের সেবায় যারা নিয়োজিত তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, গন্ডার শিকারে ওই পার্কে ঢুকে পড়েন পাঁচ চোরাশিকারি। তাঁদের মধ্যে চারজন ফিরে যেতে পারলেও অন্যজন আর পারেননি। অন্যজন চলে যায় সিংহের পেটে।

সাউথ আফ্রিকান ন্যাশনাল পার্কস কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানা যায়, প্রথমে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে প্রাণ যায় এরপর সিংহ তাঁকে খেয়ে ফেলে। ওই চোরাশিকারির সহযোগীরা ভুক্তভোগীর পরিবারকে জানিয়েছে, হাতির কবলে পড়ে ওই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

এই ঘটনা ক্রুগার ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষকে জানায় মৃত চোরাশিকারির পরিবার। এরপর একটি অনুসন্ধান দল নিহত চোরাশিকারির দেহাবশেষ খুঁজতে গিয়ে তাঁর খুলি এবং ট্রাউজার ছাড়া অন্য কিছু পায়নি। অনুসন্ধান দলের সদস্যরা মানুষের পায়ের ছাপ দেখতে পেয়েছেন।

ক্রুগার পার্কের ব্যবস্থাপনা নির্বাহী ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কে অবৈধভাবে বা হেঁটে প্রবেশ করা একেবারেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এতে অনেক বিপদ ঘটতে পারে এবং এই মৃত্যু সেটাই প্রমাণ করে।

পার্কের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনজন অভিযুক্ত শিকারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে বন্দুক ও বন্দুকের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের আদালতে হাজির করা হবে। পার্ক কর্তৃপক্ষ ওই পশু পাচারকারীর মৃত্যু ও অভিযানে থাকা অভিযুক্তদের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

এশিয়ার দেশগুলোতে গন্ডারের শিংয়ের চাহিদা ব্যাপক। গত শনিবার হংকং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ২১ লাখ ডলার মূল্যের গন্ডারের শিংয়ের চোরাচালান আটকের ঘটনা ঘটেছে।

ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কে অনেক দিন ধরেই চোরাশিকার–সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা হলো আফ্রিকা মহাদেশে গন্ডারের সব থেকে বড় আবাসস্থল। আফ্রিকার ২৫ হাজার গন্ডারের মধ্যে শুধু এখানেই রয়েছে ২০ হাজার। বিশ্বের গন্ডারের সংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ রয়েছে দেশটিতে।

অবৈধভাবে শিকার করতে গিয়ে যেতে হল সিংহের পেটে আর পরে রইলো তাঁর মাথার খুলি ও ট্রাউজার।