ছেলেধরার গুজব ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে। তারই রেশে গতকাল রোববার মহারাষ্ট্রের ধুলে জেলায় গ্রামবাসী পাঁচজনকে ছেলেধরা সন্দেহে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করে।
পুলিশ জানিয়েছে, রানীপাড়ায় বেশ কজন যাত্রী বাস থেকে নামে। এ সময় ওই বাসস্ট্যান্ডে কয়েকজন যাত্রীকে একটি শিশুর সঙ্গে কথা বলতে দেখে এলাকার লোকজন। সঙ্গে সঙ্গে তাদের ছেলেধরা সন্দেহে মারধর শুরু করে। পরে পাঁচজনই মারা যায়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে পাঠিয়ে দেয় স্থানীয় পিলখানার হাসপাতালে।
ধুলে জেলায় যাঁদের পিটিয়ে মারা হয়েছে, তাঁরা সবাই ভিক্ষুক। এবং বহিরাগত। আগেই হোয়াটস অ্যাপে ছড়িয়ে পড়েছিল গুজব, ‘‘৪০০ জন ছেলেধরা বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, কার্বি আংলংসহ দেশের বিঙিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। এরা লোভ দেখিয়ে আপনার শিশুকে তুলে নিয়ে যেতে পারে।’’
পুলিশের ধারণা, এই গুজবেরই বলি হতে হয়েছে পাঁচ নিরপরাধ ভিক্ষুককে। এরা শোলাপুর এলাকা থেকে ভিক্ষা করতে গিয়েছিলেন ধুলের রাইপদা গ্রামে। পুলিশ আসার আগেই তাংদের পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু গুজবে যেমন রাশ টানা যায়নি। ছেলেধরা নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে তামিলনাড়ু, অসম, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, গুজরাটসহ বিভিন্ন রাজ্যে। অনেকেই বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে স্থানীয় এবং বহিরাগতদের মধ্যে গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা চলছে। অপরিচিত কাউকে দেখলেই এলাকার মানুষ ধরে নিচ্ছেন, তারা ছেলেধরা।
সোমবারও গণপ্রহারের ঘটনা ঘটেছে মহারাষ্ট্রের মালেগাঁও এলাকায়। ছেলেধরা সন্দেহে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে প্রকাশ্যে পেটানো হয়েছে। তবে পুলিশ সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছনোয় তাঁরা প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।
