জনগণের ভোটের প্রতিফলনই এই সরকার: প্রধানমন্ত্রী


জনগণের ভোটের প্রতিফলনই এই সরকার: প্রধানমন্ত্রী

দীর্ঘ দেড় দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারই সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই সরকার একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর।

শনিবার (২৫ এপ্রিল, ২০২৬) সকালে রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ফাউন্ডেশনের নতুন ট্রেনিং কাম ডরমিটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সরকারের লক্ষ্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে দীর্ঘ সময়ের ভোটাধিকার বঞ্চিত মানুষের আবেগ এবং একটি আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে সরাসরি ভোট দিয়ে সরকার নির্বাচিত করার যে আকুতি ছিল, আজকের এই সরকার সেই প্রত্যাশারই ফসল। জনগণ কেবল একটি সরকার পরিবর্তন চায়নি, তারা চেয়েছিল এমন এক শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসকের জবাবদিহি থাকবে এবং প্রতিটি নাগরিক ন্যায়বিচার পাবে।”

প্রশাসনের আধুনিকায়ন ও জনকল্যাণ

বিয়াম ফাউন্ডেশনের নতুন ডরমিটরি ভবনের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষ ও সেবামুখী প্রশাসন গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্তমান সরকার কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর নয়, বরং সাধারণ জনগণের সেবক। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি জনগণের কাছাকাছি গিয়ে তাদের সমস্যার সমাধান করার নির্দেশ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সুশাসনের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে ভেঙে পড়েছিল, তা সংস্কার করা একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। তবে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার যে অঙ্গীকার নিয়ে এই সরকার দায়িত্ব নিয়েছে, তা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে ‘সরাসরি ভোট’ এবং ‘জবাবদিহিতা’ শব্দগুলোর ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক ধারায় স্থায়িত্ব আনার বার্তা দিয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে একটি বিশেষ রাজনৈতিক বলয়ে আটকে থাকা রাষ্ট্রযন্ত্রকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি নিয়ে আসার যে চেষ্টা, তার প্রতিফলন দেখা গেছে তার কথাগুলোতে।

অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বিয়াম ফাউন্ডেশনের নতুন এই ভবনটি সরকারি কর্মকর্তাদের পেশাগত মানোন্নয়নে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।