জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ও জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। বিশেষ করে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বিপ্লবীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘ইনডেমনিটি’ বা দায়মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিপ্লবের স্পন্দনে নতুন পথচলা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার কোনো সাধারণ ক্ষমতার রদবদল নয়, বরং এটি ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ফসল। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের সেই উত্তাল দিনগুলোতে যারা স্বৈরাচারী শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল, তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। সরকারের প্রতিটি নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্তে সেই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।
তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়। সেই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা এবং সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখা আমাদের নৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।”
আন্দোলনকারীদের জন্য বিশেষ ‘দায়মুক্তি’
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাটি আসে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে থাকা আইনি জটিলতা প্রসঙ্গে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, বিগত শাসনামলে এবং গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে যত মামলা বা আইনি হয়রানি করা হয়েছে, তা নিরসনে সরকার ‘ইনডেমনিটি’ বা দায়মুক্তির বিধান কার্যকর করবে।
এটি কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি বিপ্লবীদের প্রতি রাষ্ট্রের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি মাধ্যম বলে তিনি অভিহিত করেন। তার মতে, যারা রাষ্ট্র সংস্কারের নেশায় রাজপথে নেমেছিলেন, তাদের যেন কোনোভাবেই ভবিষ্যতের কোনো প্রতিহিংসার শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করাই এই ইনডেমনিটির মূল লক্ষ্য।
বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক ও আগামীর রোডম্যাপ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকটি ছিল মূলত রাষ্ট্র সংস্কারের প্রাথমিক রূপরেখা প্রণয়নের একটি মঞ্চ। বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে সালাহউদ্দিন আহমদ ইঙ্গিত দেন যে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং পুলিশ বাহিনীকে একটি জনবান্ধব সংস্থায় রূপান্তর করাই এখন মন্ত্রণালয়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তিনি বিশ্বাস করেন, জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করলে প্রশাসনিক জটিলতাগুলো কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে।
বৈঠকের প্রধান আলোকপাতসমূহ:
গণঅভ্যুত্থানের চেতনা: সরকারের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
বিপ্লবীদের সুরক্ষা: আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের আইনি দায়মুক্তি (Indemnity) প্রদান নিশ্চিত করা।
রাষ্ট্র সংস্কার: পুলিশের চেইন অব কমান্ড পুনরুদ্ধার ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা।
সংসদীয় কার্যক্রম: বিশেষ কমিটির মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা।
জনআকাঙ্ক্ষা ও আগামীর চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থার জায়গা আরও সুদৃঢ় করবে। তবে ইনডেমনিটির মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামোতে কীভাবে রূপ পায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। রাজপথ থেকে উঠে আসা একটি সরকারের জন্য মানুষের এই আবেগ ও আইনগত বাধ্যবাধকতার মধ্যে সমন্বয় করা বড় একটি পরীক্ষা।

