উপদেষ্টা পরিষদে বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) টেলিকমিউনিকেশন্স নেটওয়ার্ক এবং লাইসেন্সিং পলিসি ২০২৫ অনুমোদন পেয়েছে, যা বাংলাদেশের টেলিকম খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সরকারি উপদেষ্টা ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এই নীতিমালার বিশদ বিবরণ তুলে ধরেন এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।
পূর্ববর্তী লাইসেন্স ব্যবস্থায় ২৬ প্রকারের মোট ৩,২৯৯টি লাইসেন্স থাকায় টেলিকম সেবার গুণগত মান উন্নয়ন এবং সেবার মূল্যের সঙ্গে মানের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। নতুন নীতিমালায় এই জটিলতা দূর করে লাইসেন্সের ধরন মাত্র তিনটিতে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে সেবার মান (কোয়ালিটি অব সার্ভিস বা কিউওএস) নিশ্চিত করতে টেলিকম কোম্পানিগুলো আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবে। এই সরলীকৃত কাঠামো গ্রাহকদের জন্য সাশ্রয়ী ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করবে।
পুরোনো বহুমাত্রিক লাইসেন্স পদ্ধতির কারণে মধ্যস্বত্বভোগীরা টেলিকম বাজার থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্বের অংশ নিয়ে নিত, যদিও তারা কোনো উল্লেখযোগ্য মূল্য সংযোজন করত না। নতুন নীতিমালায় এই সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। এই অতিরিক্ত রাজস্ব জলবায়ু ঝুঁকিপ্রবণ এলাকায় টেলিকম নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা প্রদান এবং নাগরিকবান্ধব অন্যান্য কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে গঠিত একটি কমিটি, যার নেতৃত্বে ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা, এই নীতিমালার খসড়া তৈরি ও সংশোধনের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কেবিনেট ডিভিশনে চূড়ান্ত প্রস্তাব উপস্থাপনের আগে প্রায় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে নীতিমালাটি আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী হয়।
নতুন নীতিমালায় অ্যাকটিভ ও প্যাসিভ শেয়ারিংয়ের বিধান যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে টেলিকম কোম্পানিগুলো অবকাঠামো ও সম্পদ ভাগাভাগি করে প্রতিযোগিতামূলকভাবে উন্নত সেবা প্রদান করতে পারবে। এটি সেবার গুণগত মান বৃদ্ধি করার পাশাপাশি খরচ কমাবে, যা গ্রাহকদের জন্য সুফল বয়ে আনবে। এছাড়া, এই পদক্ষেপ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে সহায়ক হবে, যা টেলিকম খাতের প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।

