ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলীর পদত্যাগ



ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) শীর্ষ পদে বড় ধরনের রদবদলের ইঙ্গিত দিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

আজ বুধবার দুপুরে তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে এই পদত্যাগপত্র পাঠান, যা নিয়ে বর্তমানে প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক তোলপাড় চলছে।

আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট

আজ বুধবার দুপুরে খোদ শেখ মো. সাজ্জাত আলীই গণমাধ্যমকে তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আইজিপির দপ্তরে তিনি ইতিমধ্যে চিঠি পাঠিয়েছেন। তবে পদত্যাগপত্র জমা দিলেও তিনি এখনই দায়িত্ব ছাড়ছেন না। সরকারের পক্ষ থেকে পরবর্তী নির্দেশনা বা নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তিনি রুটিনমাফিক দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাবেন।

সাজ্জাত আলী প্রথম আলোকে বলেন, “আমি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি ঠিকই, তবে সরকারি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আমি আমার দায়িত্বে বহাল আছি।” পদত্যাগপত্রে তিনি কোনো রাজনৈতিক বা পেশাগত চাপের কথা উল্লেখ না করে একান্তই ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক’ সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছেন।

পুলিশ প্রশাসনে গুঞ্জন ও বিশ্লেষণ

একজন ডিএমপি কমিশনারের পদত্যাগ কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, বিশেষ করে যখন দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি একটি ক্রান্তিকাল পার করছে। ১৫ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে আমরা দেখেছি, এ ধরনের বড় পদে থাকা কর্মকর্তারা সাধারণত মেয়াদের শেষ দিকে বা বিশেষ কোনো প্রশাসনিক পরিবর্তনের সময় পদত্যাগ করেন। তবে সাজ্জাত আলীর এই সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা পুলিশের চেইন অব কমান্ডে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে খোদ ডিএমপির ভেতরেই নানা আলোচনা চলছে।

প্রশাসনের অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ‘ব্যক্তিগত কারণ’ বললেও এর গভীরে প্রশাসনিক কোনো সমন্বয়হীনতা বা সংস্কার প্রক্রিয়ার চাপ থাকতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য না আসা পর্যন্ত একে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

সাজ্জাত আলীর পদত্যাগপত্রটি এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, আইজিপি এই আবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। সরকার যদি তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে, তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডিএমপির জন্য নতুন কোনো মুখ বেছে নেওয়া হবে।

ঢাকা মহানগরীর মতো বিশাল এবং স্পর্শকাতর এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিএমপি কমিশনারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এখানে কোনো ধরনের শূন্যতা দীর্ঘস্থায়ী হতে দেবে না সরকার। খুব দ্রুতই হয়তো আমরা একজন নতুন কমিশনারের নাম শুনতে পাব অথবা সাজ্জাত আলীকে আরও কিছুদিন দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হতে পারে।