রাজধানীতে চলাচলকারী বাসের অধিকাংশই নিজ উদ্যোগে ‘সিটিং সার্ভিসে’ চলাচল করছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি। এর ফলে গাড়ির অভাবে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়ছেন যাত্রীরা।
সম্প্রতি ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে টানা ছয় দিন ধরে জরিপ চালিয়ে গণপরিবহনে নৈরাজ্য ও যাত্রী দুর্ভোগের এই চিত্র তুলে ধরেছে ।
গত ৬ দিন ধরে শনির আখড়া, গুলিস্তান, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা, শাহবাগ, ফার্মগেইট, মিরপুর-১০, মহাখালী, আগারগাঁও, ধানমন্ডি, বনানী, বারিধারাসহ নগরীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই জরিপ চালানো হয়। পর্যবেক্ষণকালে ৩১০টি বাস ও ৫৫৭ জন বাসযাত্রী, ২১৪টি অটোরিকশা ও ১৮৫ জন অটোরিকশার যাত্রী, ৫৬ জন ট্যাক্সিক্যাব যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে সার্বিক চিত্র বোঝার চেষ্টা করেন জরিপকারীরা।
প্রতিবেদনে যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে বলা হয়, রোজার মাসে ইফতার ও অফিসের সময়ে বাসগুলো তাড়াহুড়া করতে গিয়ে যাত্রীদের চলন্ত অবস্থায় গাড়িতে তোলে এবং গাড়ি থেকে নামায়।
গণপরিবহন পরিচালনকারী সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএর নির্ধারিত ভাড়ার তালিকায় ‘সিটিং সার্ভিস’ বা যত আসন তত যাত্রী পরিবহনের বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে সিটিং সার্ভিসগুলো ভালো সেবার নামে বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণের বেশি ভাড়া আদায় করে চলছে।
জরিপের বরাত দিয়ে বলা হয়, সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা, দুপুর ২টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত নগরীতে চলাচলকারী বাস-মিনিবাসের প্রায় ৯৬ শতাংশ সিটিং সার্ভিসের নামে দরজা বন্ধ করে যাতায়াত করছে। এতে নগরীর মাঝপথের যাত্রী সাধারণ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।”
এই সব বাসগুলো সরকার নির্ধারিত ভাড়ার পরিবর্তে কোম্পানি নির্ধারিত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। অন্যদিকে নগরীতে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিকশার ৯৪ শতাংশই মিটারের ভাড়া না মেনে চুক্তিতে চলাচল করছে বলে জরিপে বলা হয়েছে।
