প্রিয়তমেষু,
তোমার ঘুমন্ত হৃদয়ে, আমার নির্ঘুম ভালোবাসা….
প্রিয়তমেষু,
আমি বারবার তোমার “পাগলামি প্রেমের প্রেমে” পড়তে চাই….
প্রিয়তমেষু,
ক্যাফেইন, নিকোটিন কোনো কিছুতেই নয়, আমি এ্যডিক্টেড শুধু “তুমি” তে….
প্রিয়তমেষু,
আমি চাই, “হাসি না হোক, অন্তত আমার কান্না যেনো তোমাকে স্পর্শ করে….”
প্রিয়তমেষু,
তোমার এ জন্মের জন্মটা তো আমার জন্য হলেও পারতো….
প্রিয়তমেষু,
যার উপস্থিতির মূল্য থাকেনা,
তার অনুপস্থিতিতে কিছুই আসে যায়না….
প্রিয়তমেষু,
মাঝেমাঝে ইচ্ছে করেই, নির্ঘুম কাটিয়ে দিতে ইচ্ছে করে সারাটা রাত!
সঙ্গ দিতে ইচ্ছে করে ধূলো জমানো পুরনো সুখ স্মৃতিগুলোকে….
প্রিয়তমেষু,
শুধু ফিজিক্যালি “অ্যানেসথেসিয়া প্রসেস” এ্যপ্লাই ছাড়া, মন খারাপের মনটাকেও যদি কোনোভাবে “অ্যানেসথেটিক” করা যেতো….
প্রিয়তমেষু,
জেনে রেখো, “যখন আমার পাগলামি গুলো কমে যাবে,তখন আমার ভালোবাসাও ফিকে হয়ে যাবে….”
প্রিয়তমেষু,
এ জন্মে তোমাকে না পেলে আর কোনো জন্মেই চাইনা তোমায়।
তখন তুমি আমাকে চাইবে, আমি না….
প্রিয়তমেষু,
আমি চাই পরের জন্মে তুমি “আমি” হবে, আমি “তুমি” হবো এবং তুমি হবে “জাতিস্মর”। এ জন্মের সব মনে রাখবে ঠিকই কিন্তু কোনো টেকনিকই কাজে লাগাতে পারবিনা….
প্রিয়তমেষু,
তোমার মুখে “পাগলী” ডাকটা শোনার জন্য আমি তো “ক্রনিক মেন্টাল পেশেন্ট” হয়ে থাকতেও রাজি আছি….
প্রিয়তমেষু,
হঠাৎ যদি আমি পাগলামি বন্ধ করে দেই, তবে তুমি কি আমার ইমম্যাচিউর পাগলামি গুলো কখনোই মিস করবেনা??
প্রিয়তমেষু,
কি এমন ক্ষতি হতো যদি “Santa Claus আমায় আজ তোমায় উপহার দিতো?”
প্রিয়তমেষু,
এক্সপেনসিভ কিছুতো চাইনি, চেয়েছি শুধুই একটা নির্ঘুম রাত্রি….
তিথি রায় পূজার গল্প “সিভিয়ার ক্রাশ”
মৃদুলার টাইমলাইনের এই লাস্ট স্ট্যাটাস টা তে নির্জনের চোখ আটকে যেতেই ফিরে গেলো পুরনো দিন গুলোতে….
বরাবরই খুব ঘুমকাতুরে ছেলে নির্জন। সারাদিন অফিস করে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে বেড়িয়ে পরে। পাড়ার চায়ের দোকানে বন্ধুদের বা কলিগদের সাথে আড্ডা দিয়ে তারপর বাড়িতে ফেরে। খেয়ে দেয়ে বিছানায় শুয়ে ঘুমোনোর আগে মৃদুলাকে ফোন দেয়।
এছাড়াও সারাদিনই টুকটাক চ্যাটিং, সকালে নির্জনের অফিসে পৌঁছে মৃদুলা কে “গুড মর্নিং” জানানো, ভার্সিটি থেকে ফেরার সময় মৃদুলার ফোন, লাঞ্চ টাইমে দুজনের একবার কথা বলা, সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে মৃদুলাকে নির্জনের ফোন, এভাবে দফায় দফায় টুকটাক কথা ও চ্যাট চলতেই থাকে তাদের। রাতে ঘুমোতে যাবার আগে কিছুক্ষণ কথা বলেই ঘুমিয়ে পরতে চাইতো নির্জন৷ প্রায়ই মৃদুলা চাইতো অনেক রাত অবধি অনেকক্ষণ কথা বলতে। কিন্তু সারাদিনের ক্লান্তিতে কিছুক্ষণ কথা বলে ফোন কানে নিয়েই ঘুমিয়ে যেতো নির্জন। তার বেশিরভাগ দিন গুলোর কমন রুটিন ছিলো এটা।
তাদের প্রেম শুরুর পর মৃদুলার প্রথম জন্মদিনে উপহার হিসাবে মৃদুলা নির্জনের কাছে একটা নির্ঘুম রাত চেয়েছিলো। চেয়েছিলো সারা রাত কথা বলতে। সেটাও পারেনি নির্জন। নয় মিনিট কথা বলেই ঘুমিয়ে পরেছিলো, আর বাকী সারাটা রাত মৃদুলা কেঁদেছিলো। পরদিন সকালে যখন শুনলো নির্জন, খুব রাগ করেছিলো মৃদুলার ওপর, কেন অবুঝের মতো এসব পাগলামি করে মেয়েটা। কেনো বোঝেনা মৃদুলা একটা জব হোল্ডার ছেলের সাথে রিলেশনশিপে, কোনো স্টুডেন্ট ছেলের সাথে তো নয়। এসব পাগলামি টিনএজ কাঁপল দের জন্য, তাদের মতো ম্যাচিউর দের জন্য নয়……
মাঝখানে কেটে গেছে অনেক গুলো দিন। দুজনের চলার পথ আজ দুদিকে বেঁকে গেছে।
তিথি রায় পূজার গল্প “প্রথম দেখার গল্প”
ইদানীং নির্জন বেশ ইনসমনিয়ায় ভুগছে। আর মৃদুলাকে মিস করছে…..
সিগারেট খাবার পরিমাণও বেড়ে গেছে তিন গুন। সিগারেট নিয়ে মৃদুলা নির্জনকে অভিযোগ করার কোনো সুযোগই পায়নি কখনো। কারণ, প্রেমের আগেই নির্জন কড়া ভাবে বলে দিয়েছিলো – সিগারেটে প্রেমিকার হস্তক্ষেপ কখনোই মেনে নেবেনা সে। আর তাই সরাসরি বারণ করতে না পারলেও ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বলতে কমে ছাড়েনি মৃদুলা। একদিন খুব ইনিয়ে বিনিয়ে বলেছিলো, “আমি না হয় তোমাকে সিগারেট নিয়ে কিছুই বলিনা, বিয়ের পর যখন আমাদের বেবি হবে তখন বেবি গিয়ে যদি তোমাকে বলে বাবা সিগারেট খেয়োনা প্লিজ, তখন ছাড়বে তো?” নির্জন হেসে বলেছিলো, ‘এতো দূরে যেতে হবেনা। তুমি কনসিভ করলেই আমি সিগারেট ছেড়ে দিবো বোকা মেয়ে, ততদিন আমার পুরোপুরি স্বাধীনতা চাই।’
খুব নস্টালজিক হয়ে যাচ্ছে নির্জন। কিন্তু এখন ফোন দিলে মেয়েটা ঠিক সারাটা রাত কান্নাকাটি করবে। ব্রেক আপ টা কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছে না মৃদুলা।
একের পর এক সিগারেট টানছে আর ভাবছে কেনো নির্জন বোঝাতে পারছেনা মৃদুলাকে! বিচ্ছেদটাই মৃদুলার জন্য আশীর্বাদ, অভিশাপ নয়। বড্ড ইমম্যাচিউর মেয়েটা।
তাই মৃদুলাকে ফোন না দিয়ে ফেসবুকে লগইন করে মৃদুলার টাইমলাইন স্ক্রল করতে থাকলো নির্জন…..
আর মৃদুলার প্রতিটা স্ট্যাটাসেই নিজেকে আর নিজেদের খুঁজে পেলো। মৃদুলা “প্রিয়তমেষু” নামে নির্জনের নাম্বার সেভ করে রেখেছিলো। এমন কি ওর পাসওয়ার্ড ও ছিলো এই নামেই। প্রতিটা স্ট্যাটাসই তার প্রিয়তমেষু কে নিয়ে লেখা…..
প্রচণ্ড পরিমাণ অপরাধ বোধে ভুগতে থাকে নির্জন৷ নিজেকে খুব দোষী মনে হতে থাকে তার। কেনই বা মৃদুলার জীবন টাকে নিজের সাথে জড়িয়েছিলো, কেনোই বা মৃদুলার ভালোর জন্যই মৃদুলার সাথে ব্রেক আপ করলো, নিজেই হিসাব মেলাতে পারছে না। শুধু জানে এটাই তাদের দুজনের জন্য ভালো। তাহলে এত্ত অপরাধী কেন মনে হচ্ছে নিজেকে?
খাবেনা খাবেনা করেও স্লিপিং পিল খেয়ে শুয়ে পরলো নির্জন। ঘুমে যখন দুচোখ জড়িয়ে গেছে, ঠিক তখনই দেখে মৃদুলার ফোন এসেছে, টানা কয়েক বার ফোন দিলো মৃদুলা। নির্জন জানে, জেগে থাকলেও ফোনটা রিসিভ করতো না সে। হয়তো এতোরাতে অনলাইনে দেখেই ফোন দিয়েছে মেয়েটা৷ তাতে কি? ব্রেক আপ তো হয়েই গেছে, মৃদুলা মানুক বা না মানুক। আচ্ছা মৃদুলা কি সত্যিই ফোন দিয়েছে নাকি এটা নির্জনের বিভ্রম?
আর কিচ্ছু ভাবতে পারছেনা নির্জন।
সব জড়িয়ে যাচ্ছে।
অতল ঘুমে তলিয়ে গেলো নির্জন………..
পেপারস লাইফ/গল্প/তিথি রায় পূজা

