বিশ্বজুড়ে নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব কাজ করছে করোনার বিরুদ্ধে।
এবার জনপ্রিয় ফোর্বস ম্যাগাজিনের করা এক প্রতিবেদনে করোনা মোকাবেলায় নারী নেতৃত্বের লড়াইয়ের কথা ফুটে উঠেছে। যেখানে নাম উঠেছে বর্তমান বিশ্বের ৮ জন নারী সরকারপ্রধানের নাম। যারা অতি দক্ষতার সাথে করোনা পরিস্থিতি সামাল দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম।

এর আগে মার্কিন এই ম্যাগাজিন দাবি করেছিল যে, বর্তমান বিশ্বের যেসব দেশ প্রাণঘাতী করোনা মোকাবেলায় দক্ষতার সাথে সামলানোর পাশাপাশি লাগাম টেনে ধরতে পেরেছেন সেই দেশগুলোর সরকারপ্রধানরা নারী। এসময় জার্মানি, তাইওয়ান, আইসল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের কথা উল্লেখ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব নিয়ে করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জনসংখ্যার তুলনায় খুব ছোট একটি দেশ বাংলাদেশ। যেখানে প্রায় ১৬ কোটির বেশি মানুষের বসবাস। নিয়মিত দুর্যোগ সেখানে লেগেই থাকে।
কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নেয়া এই দ্রুত সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (উই ফোরাম) বিষয়টিকে “প্রশংসনীয়” বলে উল্লেখ করেছে।
প্রতিবেদনে সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট হালিম ইয়াকুব ও হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যামের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, করোনার সংক্রমণ রোধে এই দুই নারীর ত্বরিত এবং ব্যাপকভিত্তিক তৎপরতা সারা বিশ্বে প্রশংসা পেয়েছে।
সিঙ্গাপুরে এখন দ্বিতীয় দফায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছে। কিন্তু হংকং শুরু থেকেই এর লাগাম টেনে রাখতে পেরেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জর্জিয়া ইউরোপের প্রথম দেশগুলোর একটি, যারা করোনা মোকাবিলায় প্রথম কার্যকর ব্যবস্থা নেয়। দেশটির নারী প্রেসিডেন্ট সালোমে জওরাবিচভিলি দ্রুত এই ব্যবস্থা নেন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে মাত্র ৩ জনের।
ইথিওপিয়ার প্রেসিডেন্ট সাহলে ওর্ক জেওডে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে করোনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন।
ফোর্বস-এর প্রতিবেদনে এসেছে নামিবিয়ার সারা কুগংগেলোয়ার নাম। গত বছরই জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা তৈরিতে মনোযোগ দেন। যখন কোভিড নিয়ে জোরদার আলোচনা শুরু হয়নি, তখনই এ সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারি তার দেশের করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা তহবিলে নিজের দুই মাসের বেতন দিয়ে দিয়েছেন।
বলিভিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট জেনাইন অ্যানেজ শুরুতেই লকডাউন ঘোষণা করেন। ১ কোটি ২০ লাখ মানুষের দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা এতে নাজুক হলেও সংক্রমণ রোধ করা গেছে দ্রুত।

