মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের প্রাক্কালে দিল্লিতে মুসলিমবিরোধী দাঙ্গায় নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।
বুধবার যেখানে নিহতের সংখ্যা ছিল ২৭, বৃহস্পতিবার বিকালে তা ৩৮-এ পৌঁছায়। আর শুক্রবার নাগাদ এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪২। এরমধ্যে ২১ জনই গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কেননা, আহতদের মধ্যে অনেকেই এখনও ঝুঁকিমুক্ত নয়। দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছেন অনেকে।
দাঙ্গার ঘটনায় মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন ওআইসি-র বিবৃতির নিন্দা জানিয়েছে ভারতের মোদি সরকার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওআইসি’র বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যদিও দিল্লিতে এ দাঙ্গার ছাপ এখনও স্পষ্ট। ভয় আর আতঙ্ক নিয়েই শুক্রবার জুমার নামাজে অংশ নিয়েছে মুসল্লিরা।
উল্লেখ্য, ভারতের মুসলিমবিদ্বেষী নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)-এর বিরুদ্ধে মুসলিমদের বিক্ষোভের ঘটনায় বরাবরই ক্ষুব্ধ দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনেও মুসলিমবিদ্বেষী তোপ দাগেন দলটির নেতারা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথসহ বহু নেতা ঘৃণাবাদী বক্তব্য দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার সহিংসতায় উসকানি ছড়ান দিল্লির বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র। এরপরই দিল্লির পূর্ব অংশে মুসলমানদের বিরুদ্ধে শুরু হয় নজিরবিহীন তাণ্ডব।
মঙ্গলবার রাতের পর নতুন করে খুব বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনার মুখে দাঙ্গার ঘটনায় ৫১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

