ছোট বেলার কথা মনে আছে। যখন আধ-ভাঙা কথা বলতে। অল্প-সল্প বুঝতে। কইতে গিয়ে তোতলাতে। পড়ি না বলে বলতে পয়ি, করি না বলে কয়ি, পানিকে বলতে মাম। মনে আছে? শৈশব?
তবে নিশ্চয়ই এটাও মনে আছে বাবা, মা, দাদা, দাদী,নানা, নানী, ফুফু, খালা অথবা বড় আপু বা ভাইয়ের কোলে বসে গল্প শোনার কথা । তখনতো গল্পকে গপ্পো বলতে… মনে আছে ? আমার আছে, বলছি শোন-
বাগদাদ শহর। সেসময় যারা ব্যবসা করতো তাদের বলা হতো সওদাগর। আর তখনকার মানুষের তো মূল পেশাই ছিল ব্যবসা। তো শহরের শেষ প্রান্তে একজন সওদাগর বাস করত। সেই সওদাগরের দুইটি ঘোড়া ছিল। দুলকি চলকি। সেই সময় তেমন যানবাহন ছিল না । ঘোড়া, গাধা বা উটই সম্বল। সওদাগর ব্যবসার কাজে দুটো ঘোড়াই নিয়ে যেতেন। যখন যাত্রা করতেন তখন চলকিতে চড়তেন আর দুলকিতে ব্যবসার মালামাল বোঝাই করে নিতেন। দুটো ঘোড়াই ছিল বেশ উৎকৃষ্ট মানের মানের । তবে চলকির খ্যাতি ছিল যে- দৌড়ে চলকিকে কোন ঘোড়া হারাতে পারতো না। যার কারণে সওদাগর চলকিকে একটু বেশিই ভালবাসতেন। সেবার সওদাগর ব্যাবসায় প্রচুর ধন-সম্পদ উপার্জন করেন। সেই বিশাল মালামালের পাহার দুলকির পিঠে বোঝাই করে বাড়ি ফিরলেন। খুব চুরি ডাকাতি হতো বলে সওদাগরেরা বাড়ি নিচে গর্ত করে মালামাল রাখত। কেউবা সিন্দুক ঘর তৈরী করে নিতো।
সেই ঘরের মধ্যে আরেকটি ঘর তার মধ্যে আরেকটি ঘর বানিয়ে সোনা-দানা রাখা হতো ।
ঐ দিন গভীর রাতে সবাই যখন ঘুমে আছন্ন। তখন এক চোর সওদাগরের বাড়িতে চুরি করতে আসে। সে জানতো আজ সওদাগর সওদা করে অনেক মালামাল এনেছেন। সিন্দুক ঘরের দরজায় মস্ত বড় তালা ঝুলছে। চোর নিঃশব্দে তালা ভাঙার চেষ্টা করছে। কিন্তু তালা ভাঙলে শব্দ তো হবেই। তার উপরে গভীর রাত। তালা ভাঙার বিকট শব্দে সওদাগর জেগে গিয়ে চিৎকার করে ঊঠে কে কে? তখন চোরটি দ্রুত পালানো যাবে এই ভেবে আস্তাবলের দিকে ছোটে। সে জানতো চলকি কখনো হারেনা, চলকিতে চড়েলেই ধরা খাবার সম্ভাবনাও নেই, চোর চলকিতে চেপে পালায়। সওদাগর উঠে দেখেন চোর পালাচ্ছে। সেও দুলকির পিঠে চড়ে চোর পিছু ধাওয়া করেন। ঘোড়া চালনায় অনবিজ্ঞ চোরকে নাগালের মধ্যে পেতে তার খুব বেশি সময় লাগে না।
যখন চোর কে প্রায় ধরেই ফেলবে এমন সময় সে টের পান দুলকিতে চেপে আছেন। আর চোর চলকিতে। মনে পরল চলকি তো কখনো হারেনি। তখন তিনি আক্ষেপের সাথে চিৎকার করে বলেন, মূর্খ চোর ঘোড়ার সামনের পায়ের পাশে আঘাত কর, ঘোড়া চালানোও শেখনি। যে বলা সেই কাজ। আর মূহুর্তের মধ্যে চলকি নাগালের বাইরে চলা যায়। অবশেষে সওদাগর চোরকে আর ধরতে পারেলেন না। তারই শেখানো বিদ্যায় তারই ঘোড়া নিয়ে চোর পালালো আর তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন- আমার চলকি কখনো হারেনি।
আল ফেনু (ছদ্মনাম),
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

