দেশজুড়ে হামের প্রকোপে আরও ২ শিশুর মৃত্যু



দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম ও এর উপসর্গের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় এই সংক্রামক ব্যাধির উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি মে মাসের এই শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও হামজনিত জটিলতায় প্রাণ হারিয়েছে মোট ৪৫৩ জন শিশু।

বসন্তের বিদায় আর গ্রীষ্মের এই খরতাপের মাঝে দেশজুড়ে এক নীরব ঘাতক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে হাম। বিশেষ করে শিশুদের মাঝে এই রোগের বিস্তার এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আক্রান্তের গ্রাফটি জ্যামিতিক হারে ওপরের দিকে উঠছে। প্রতিদিন দেশের কোনো না কোনো হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন নতুন শিশু ভর্তি হচ্ছে, যা ঢাকার বাইরের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসালয়গুলোর ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, গত দুই মাসে অর্থাৎ ১৫ মার্চ থেকে আজ শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হয়েছেন মোট ৪১ হাজার ২৮ জন রোগী। এদের মধ্যে সিংহভাগই শিশু। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, অনেক শিশু অত্যন্ত জটিল উপসর্গ—যেমন তীব্র নিউমোনিয়া, মস্তিস্কের প্রদাহ বা মারাত্মক অপুষ্টিজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসছে, যা চিকিৎসকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে চিকিৎসাধীন রোগীদের নমুনা পরীক্ষা ও ল্যাবরেটরি রিপোর্টের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে মোট ৭ হাজার ৫২৪ জনের শরীরে ল্যাব-নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। তবে উপসর্গ থাকা বাকী বিপুল সংখ্যক রোগীর ওপরও কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে।

আশার কথা হলো, শত সীমাবদ্ধতার মাঝেও দেশের চিকিৎসা খাতের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা নিরলস সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। হাসপাতালগুলোতে বিশেষায়িত আইসোলেশন ওয়ার্ড খুলে আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চলছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, এ পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে মোট ৩৬ হাজার ৬৪৫ জন শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। তবে এখনও হাজার হাজার শিশু চিকিৎসাধীন থাকায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ার শঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।