প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গ্রাম থেকে শহর—দেশের সর্বস্তরের মানুষ খাল খনন কর্মসূচির সুফল পাবেন। আজ শনিবার বিকেলে চাঁদপুর সদরের ঐতিহাসিক ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। একই সাথে তিনি দেশকে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও অপশাসনের বৃত্ত থেকে মুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শনিবার বিকেলে মেঘনা উপকূলীয় জেলা চাঁদপুরে এক বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি কোদাল হাতে বিশ্ব খাল পুনঃখনন কর্মসূচির সূচনা করেন, যা আশির দশকের ঐতিহ্যবাহী উৎপাদনমুখী ও স্বনির্ভর রাজনীতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণের প্রথম পর্বের আন্দোলন সফল হয়েছে। তবে কেবল সরকার পরিবর্তনই মূল লক্ষ্য ছিল না, এখন শুরু হয়েছে দ্বিতীয় পর্বের কঠিন লড়াই—যা হলো যুদ্ধবিধ্বস্ত বা বিপর্যস্ত দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার লড়াই। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “প্রথম পর্বের আন্দোলন আমরা সফল করেছি। এবার দ্বিতীয় পর্বে আমাদের সবাইকে মিলে এই ক্ষতবিক্ষত দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে। উৎপাদন বাড়াতে হবে, পানির ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিগত ১৬ বছরের শাসনব্যবস্থার চরম অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের খতিয়ান তুলে ধরেন। দেশের অর্থ ও চিকিৎসাব্যবস্থার ভঙ্গুর দশার জন্য পূর্ববর্তী সরকারকে দায়ী করে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, “বিগত ১৬ বছর ধরে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। একটি বালিশের দাম ৮০ হাজার টাকা দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করে তা দেশের বাইরে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনকে সম্পূর্ণভাবে রাজনীতিকীকরণ করে অকার্যকর করা হয়েছিল।”
চিকিৎসাব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, অন্য একটি দেশের চিকিৎসা ব্যবসার সুবিধার্থে সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, যা থেকে দেশের মানুষকে মুক্ত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় অগ্রাধিকার।

