দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা: ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর


দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা: ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দেশের প্রতিটি নাগরিকের মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে তিনি দেশব্যাপী ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। একইসঙ্গে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পরিত্যক্ত ভবনগুলোকে দ্রুত সংস্কার করে সেগুলোকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রূপান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান।


ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর দফতরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও দেশের শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ‘ই-হেলথ’ কার্ড প্রকল্পের কাজ অবিলম্বে শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য একটি ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা। এর ফলে একজন রোগী দেশের যেকোনো প্রান্তের হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকরা সহজেই তার পূর্ববর্তী রোগের ইতিহাস ও চিকিৎসার তথ্য জানতে পারবেন। আধুনিক বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো এই স্মার্ট স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশেও জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত সেবা পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিত্যক্ত ভবন হবে আধুনিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র

বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় ছিল অবকাঠামোগত উন্নয়ন। প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্য করেছেন যে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ (এলজিইডি) বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অসংখ্য ভবন বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবার পরিধি বাড়াতে এই ভবনগুলোকে কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

তথ্যমতে, শুধুমাত্র এলজিইডি’র অধীনেই বর্তমানে প্রায় ১৭০টি পরিত্যক্ত ভবন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা এ ধরনের পরিত্যক্ত স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে আসতে হবে। সংস্কারের পর এই ভবনগুলো কমিউনিটি ক্লিনিক বা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে, যা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসার প্রধান ভরসাস্থল হয়ে উঠবে।

সাংবাদিকের ডায়েরি থেকে: কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

দীর্ঘ দেড় দশকের সাংবাদিকতা জীবনে আমরা দেখেছি, গ্রামের সাধারণ মানুষ সামান্য অসুখেও সুদূর ঢাকা কিংবা বড় শহরগুলোতে ছুটে আসেন। এর প্রধান কারণ স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব। প্রধানমন্ত্রীর এই নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে সরকারি সম্পদের অপচয় রোধ হওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ স্বাস্থ্যকাঠামোয় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালু হলে চিকিৎসাক্ষেত্রে হয়রানি কমবে এবং সেবার মান ত্বরান্বিত হবে।

একনজরে বৈঠকের মূল সিদ্ধান্তসমূহ:

  • ই-হেলথ কার্ড: প্রতিটি নাগরিকের জন্য ডিজিটাল হেলথ ডাটাবেজ তৈরি ও স্মার্ট কার্ড প্রদান।

  • পরিত্যক্ত ভবন ব্যবহার: এলজিইডি-সহ বিভিন্ন সংস্থার পরিত্যক্ত ভবনগুলোকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রূপান্তর।

  • অবকাঠামো চিহ্নিতকরণ: এলজিইডি’র ১৭০টি সহ সকল সরকারি পরিত্যক্ত ভবন চিহ্নিত করার নির্দেশ।

  • মন্ত্রণালয়ের সক্রিয়তা: জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আরও গতিশীল হওয়ার নির্দেশ।


আগামীর প্রত্যাশা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের চেহারা বদলে দিতে পারে। তবে প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে মন্ত্রণালয়গুলো কতটা দ্রুত সমন্বয় করতে পারে তার ওপর।

পরিত্যক্ত ভবনগুলোকে আধুনিক ক্লিনিকে রূপান্তর এবং ডিজিটাল ডাটাবেজ ব্যবস্থাপনা সফল হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার ভোগান্তি অনেকাংশেই লাঘব হবে।