নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও ভঙ্গুর রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের লক্ষ্য নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের দুই মাস পূর্ণ হলো। এই স্বল্প সময়ে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
আজ শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই কর্মযজ্ঞ তুলে ধরে জানানো হয়, দীর্ঘ দেড় দশকের স্থবিরতা কাটিয়ে দেশ এখন সমৃদ্ধির পথে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সরকারের দুই মাসের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি দাবি করেন, সরকার গঠনের পর থেকেই প্রতিটি দিন জনস্বার্থ রক্ষায় ব্যয় করা হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে সেগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে মাহদী আমিন এক আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত এই সরকার এক ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। দীর্ঘ ১৫ বছরের ‘ফ্যাসিবাদী শাসনের’ ফলে যে প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আপসহীন নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দুই মাস একটি সরকারের জন্য অত্যন্ত ক্ষুদ্র সময় হলেও, নেওয়া পদক্ষেপগুলোর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ইতোমধ্যেই দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হতে শুরু করেছে।
দৃশ্যমান পরিবর্তন ও সংস্কারের চিত্র
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ৬০ দিনে প্রশাসনিক সংস্কার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একাধিক সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখপাত্রের মতে, অতীতের দুঃশাসন পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং বিগত সরকারের সময়কার বিতর্কিত আইনগুলো বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হওয়াকে এই সময়ের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে ব্যাংকিং খাতে আমূল পরিবর্তনের যে সূচনা হয়েছে, তার ফলাফল খুব দ্রুতই সাধারণ মানুষ ভোগ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন মাহদী আমিন।
অগ্রগতির মূল স্তম্ভসমূহ: এক নজরে ৬০ পদক্ষেপের নির্যাস
সরকারের পক্ষ থেকে যেসব উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা জানানো হয়েছে, তার মধ্যে প্রধান কয়েকটি হলো:
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার: নির্বাচনি ব্যবস্থার আমূল সংস্কার ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের কাজ শুরু।
বিচারের স্বাধীনতা: বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে স্বাধীন বিচারিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ।
দুর্নীতিবিরোধী অভিযান: গত দেড় দশকের অর্থপাচার ও দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশের উদ্যোগ।
বাজার নিয়ন্ত্রণ: সিন্ডিকেট ভেঙে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালে রাখার বিশেষ টাস্কফোর্স।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা: আমলাতন্ত্রে দলীয়করণের ইতি ঘটিয়ে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৬০টি পদক্ষেপের ঘোষণা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক, তবে এর যথাযথ বাস্তবায়নই হবে সরকারের আসল পরীক্ষা। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা দুই মাসে সমাধান সম্ভব নয়, তবে সদিচ্ছার প্রতিফলন থাকলে জনগণের সমর্থন ধরে রাখা সহজ হয়।
মাহদী আমিন তার বক্তব্যের শেষাংশে বলেন, “আমরা জানি পথটি কণ্টকাকীর্ণ। তবে জনগণের ম্যান্ডেট আমাদের শক্তির উৎস।” তিনি দেশের আপামর জনসাধারণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিটি পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো একটি জবাবদিহিমূলক এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে তোলা।

