মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও জানিয়েছেন পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়াকে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই ।সিঙ্গাপুরের শীর্ষ সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে অগ্রসর হবে বলেও আশা সাবেক এ সিআইএপ্রধানের।
গত রবিবার সিএনএনকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, অ-পারমাণবিকীকরণের ক্ষেত্রে পিয়ংইয়ংয়ের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর পর্যালোচনা হবে।
অবশ্য চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে পিয়ংইয়ংকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন। পম্পেওর অবস্থানের সঙ্গে তার ওই বক্তব্যের সুস্পষ্ট পার্থক্য আছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেছিলেন, “সম্মেলনে যে চুক্তি হয়েছে তার বাস্তবায়ন আমরা কিভাবে চাই সেটি যখন তাদের কাছে উপস্থাপন করা হবে তখন তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু চাওয়া হবে এবং অবশ্যই তার জন্য সুনির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হবে,”
এ প্রসঙ্গে রোববার সিএনএনকে পম্পেও বলেন, পারমাণবিক কর্মসূচি বাতিলে উত্তর কোরিয়ার আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করবে মার্কিন প্রশাসন; যদিও সুনির্দিষ্ট করে কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে না।
সিঙ্গাপুরে ১২ জুন অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ট্রাম্প-কিম সম্মেলনকে ইঙ্গিত করে পম্পেও বলেন “কোনো সময়সীমা দিচ্ছি না আমি; হতে পারে এটি দুই মাস কি ছয় মাস। উভয় নেতা যা নির্ধারণ করেছেন তা অর্জনে দ্রুতগতিতে অগ্রসর হওয়ার ব্যাপারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ,”।
ওই শীর্ষ সম্মেলনের পরপরই মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছিলেন, ট্রাম্পের এই মেয়াদের মধ্যেই উত্তর কোরিয়া ‘বড় ধরনের নিরস্ত্রীকরণ’ করবে বলে আশা ওয়াশিংটনের।
ট্রাম্প-কিম দুজনই কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্র মুক্ত করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিলেও পিয়ংইয়ং কীভাবে ও কত সময়ের মধ্যে তার পরমাণু কর্মসূচি বাতিল করবে যৌথ ঘোষণায় তার উল্লেখ নেই বলে জানিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা।
গত সপ্তাহেও ট্রাম্প বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতার সঙ্গে তার স্বাক্ষরিত ঘোষণার সারকথাই হচ্ছে- ‘উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ’। যদিও ঠিক কীভাবে এটি অর্জিত হবে, তার বিস্তারিত বলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
পিয়ংইয়ং অবশ্য শুরু থেকেই ‘একতরফা নিরস্ত্রীকরণে’ আপত্তির কথা জানিয়ে আসছে।
উত্তর কোরিয়াকে আশ্বস্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া স্থগিত ঘোষণা করেছে। ওই ‘যুদ্ধ মহড়াকে’ উস্কানি হিসেবেই বিবেচনা করত পিয়ংইয়ং।
রোববার পম্পেওর নেওয়া ওই টেলিফোন সাক্ষাৎকারটি সোমবার প্রকাশ করে সিএনএন। এতে যৌথ মহড়া বাতিলে প্রেসিডেন্টের ঘোষণার কথাও পুনরায় উল্লেখ করেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী।
“এই পদক্ষেপ ততদিন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে যতদিন মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে একে অপরের প্রতি আস্থা থাকবে, মিলবে ফলপ্রসূ অর্জন। যদি তা না হয়, যদি দেখা যায় দুই নেতার প্রত্যাশা পূরণে সক্ষমতা নেই, তাহলে, আমরা এ পদক্ষেপ পুনঃযাচাই করবো,” বলেন কয়েক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া সাবেক এ সিআইএপ্রধান।
চার দশকের উত্তেজনার পর কিম দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দমাফিক সব করে ফেলবেন, এমনটা প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী। যদিও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে উত্তরের শীর্ষ নেতার অবস্থান ‘দ্ব্যর্থহীন’, বলেছেন পম্পেও।
এদিকে সোমবার পেন্টাগনের মুখপাত্র ডানা হোয়াইটও জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কেবল যে কোনো মধ্যস্থতার সামরিক বিষয়-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে কথা বলার এখতিয়ার রাখেন, কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ‘সময়সীমা’ নিয়ে নয়।
সিঙ্গাপুরের সম্মেলনে ট্রাম্প-কিমের দেওয়া প্রতিশ্রুতি আরো ফলপ্রসূ করার চেষ্টা হিসেবে ‘খুব বেশি দেরি হওয়ার আগেই’ ফের উত্তর কোরিয়া যাওয়ার ইচ্ছার কথা গত সপ্তাহেই জানিয়েছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী।
