পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ সারাদেশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ছিনতাই, টিকিট কালোবাজারি ও মহাসড়কের ডাকাতি রোধে পুলিশ ও র্যাবের বিশেষ টহল, চেকপোস্ট এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা শুরু হয়েছে আজ থেকেই।
উৎসবের আমেজে নিরাপত্তার চাদর
বাঙালির প্রাণের উৎসব ঈদ মানেই শেকড়ের টানে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা। তবে এই আনন্দযাত্রায় প্রতিবছরই গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা আর অপরাধীদের দৌরাত্ম্য। গত ১৫ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, উৎসবের এই সময়টাতেই সক্রিয় হয়ে ওঠে অজ্ঞান পার্টি ও টিকিট সিন্ডিকেট। তবে এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে প্রশাসন।
রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালসহ সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এবং কমলাপুর রেলস্টেশনে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। পোশাকি পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে কয়েক গুণ। বিশেষ করে টিকিট কালোবাজারি রুখতে কাউন্টারগুলোতে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং র্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্প।
মহাসড়ক ও জলপথের সতর্কতা
ঢাকা থেকে বের হওয়ার প্রবেশপথগুলোতে যানবাহনের চাপ বাড়ার সাথে সাথে যানজট নিরসনে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণাভিমুখী প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসানো হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। ঈদযাত্রায় পশুবাহী ট্রাক বা সাধারণ যাত্রীবাহী বাসে চাঁদাবাজি ঠেকাতে ড্রোন প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। জলপথেও লঞ্চের ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ঠেকাতে বিআইডব্লিউটিএ-র সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে কোস্টগার্ড।
ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা: উদ্বেগের নাম ‘সিঁধেল চুরি’
ঈদের ছুটিতে ঢাকা যখন জনশূন্য হয়ে পড়ে, তখন এক শ্রেণির চোর ও ডাকাত দলের নজর থাকে তালাবদ্ধ বাসাবাড়ির দিকে। গত কয়েক বছরের উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঈদের ৩-৪ দিন রাজধানীর অপরাধের হার কিছুটা বাড়ে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় এবার পাড়া-মহল্লায় বিট পুলিশিং জোরদার করা হয়েছে। ফ্ল্যাট মালিকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন তারা সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখেন এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য বাড়ি ছাড়লে নিকটস্থ থানায় অবহিত করেন।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, ঈদুল ফিতরের দিন পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ঈদের নামাজের জামাতগুলোতেও থাকবে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরসহ ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এক নজরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ পদক্ষেপসমূহ:
টিকিট জালিয়াতি রোধ: বাস ও ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে টার্মিনালে ২৪ ঘণ্টা ভ্রাম্যমাণ আদালতের টহল।
অজ্ঞান পার্টি দমন: জনবহুল স্থানে মাইকিং ও সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করে অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির সদস্যদের চিহ্নিত করা।
ফাঁকা বাড়ির পাহারা: রাজধানীর অলিগলিতে পুলিশের সাইকেল ও মোটরসাইকেল টহল বৃদ্ধি।
মহাসড়ক নজরদারি: হাইওয়েতে পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ করা এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি শনাক্ত করা।
হেল্পলাইন: যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ এবং র্যাবের বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত সহায়তা প্রদান।

