ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় তদন্তে গাফিলতি হলে হস্তক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট।
আজ বৃহস্পতিবার নুসরাত হত্যার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব কথা বলেন।
বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ বলেন, “আমরা যতটুকু জানি যে এ মামলা পিবিআইকে ট্রান্সফার করা হয়েছে তদন্তের জন্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে এটা তদারকি করছেন। তারপরও আমরা সমভাবে ব্যথিত। আমরা কোনোভাবেই চাই না সাগর-রুনির মত, মিতুর মত, তনুর মত এই মামলাটা যেন হারিয়ে না যায়।”
আইনজীবীকে সুমনকে উদ্দেশ্য করে বিচারক বলেন, “আপনারা খেয়াল রাখেন। আমরাও খেয়াল রাখছি। তদন্তের কোনো জায়গায় কোনো কারণে যদি মনে হয় গাফিলতি আছে, আপনারা চলে আসবেন, আমরা ইন্টারফেয়ার (হস্তক্ষেপ) করব।”
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার জন্মভূমি ফেনীর সোনাগাজীতে পারিবারিক কবরস্থানে দাদির কবরের পাশে নুসরাতকে সমাহিত করা হয়।
মো. ছাবের সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে তার নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন নুসরাতে বাবা এ কেএম মুসা। এর আগে বিকাল সাড়ে পাঁচটায় গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায় নিথর নুসরাতের লাশবাহী গাড়ি।
উল্লেখ্য, শনিবার সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে নুসরাতকে বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় নিয়ে যান তার বড় ভাই। তাকে কেন্দ্রে ঢুকিয়ে দিয়ে ভাই বাড়ি যান।
পরীক্ষা শুরুর আগে মাদ্রাসায় কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়। নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিলে তিনি মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। বুধবার রাত সাড়ে নয়টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

