‘নুসরাতের হত্যাকারীদের ছাড় দেয়া হবে না’


রোহিঙ্গাদের ফিরতেই হবে: প্রধানমন্ত্রী

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় হত্যাকারীদের ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ শুক্রবার বিকেলে গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, এইচ টি ইমাম, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সৈয়দ রেজাউল রহমান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল খালেদ, হামিদা বানু, মুকুল বোস, মোহাম্মদ জমির, মসিউর রহমান, মহীউদ্দীন খান আলমগীরসহ অন্যরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। যারা বোরকা পরে নুসরাতের শরীরে আগুন লাগিয়ে হত্যা করেছে, তারা কেউ ছাড় পাবে না। তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হবে। ইতিমধ্যে আমরা কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছি।

তিনি বলেন, আমরা মেয়েটিকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখজনক, মেয়েটি আমাদের ছেড়ে চলে গেল। তাকে হত্যা করা হয়েছে। বোরকা পরে হাত-মুখ ঢেকে তারপর তাঁকে আগুন দেওয়া হয়েছে। এরা কেউই ছাড় পাবে না। আমরা ছাড়ব না। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি তাদের পেতে হবে। যেন আর কেউ এমন ঘটনা ঘটাতে সাহস না পায়। তিনি বলেন, আমরা মেয়েটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠাতে চেয়েছিলাম। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়ার মতো ছিল না। সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে, তাঁদের সঙ্গে পরামর্শ করে এখানে চিকিৎসা চলেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, মেয়েটিকে বাঁচানো গেল না। বিনা কারণে মেয়েটিকে হত্যা করা হলো। এর সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড়ব না। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি তাদের পেতেই হবে।

তিনি আরো বলেন, এই ঘটনার শুরুটা কারা করেছিল? ২০১৩ সালে নির্বাচন পণ্ড করার নামে যে জ্বালাও-পোড়াও অগ্নিসন্ত্রাস করেছে। কিন্তু তারা নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি। আবার ২০১৫ সালে সরকারকে উৎখাত করার নামে সারা দেশে অগ্নিসন্ত্রাস সৃষ্টি করে। এই দেশে এমন বীভৎস ঘটনা সেই পাকিস্তান আমলে আমরা দেখেছি। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন দেশের মানুষের ওপর হামলা শুরু করে, তখন তারা বস্তিতে আগুন দিত। আগুন দেওয়ার পর যখনই তারা ঘর থেকে বেড়িয়ে আসত, তখনই তারা তাদের গুলি করে হত্যা করত। এভাবে তারা বহু মানুষ হত্যা করেছে। বিএনপির আমলেও এ রকম ঘটনা ঘটেছে।