পাপিয়ার অপরাধ কাণ্ডে সাবেক সাংসদকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক হন নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া। ধরা পড়ার পর তাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এরপর থেকেই জাল টাকা সরবরাহ, মাদক ব্যবসা, অনৈতিক কাজ, অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে পাপিয়া, তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে মতি সুমনসহ চারজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি।
তদন্ত–সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, অপরাধ কর্মকাণ্ড থেকে পাওয়া টাকা পাপিয়া সাধারণত ঢাকায় নিজের বিভিন্ন বাসায় রাখতেন। এর মধ্যে র্যাব ইন্দিরা রোডের বাসায় অভিযান চালিয়ে নগদ ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা উদ্ধার করে। তার স্বামী সুমন নরসিংদীর নিহত মেয়র লোকমান হোসেনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এছাড়াও, তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ কয়েকটি মামলা রয়েছে।
পাপিয়ার বিরুদ্ধে করা তিনটি মামলার তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তবে এসব মামলা তদন্ত করার অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে র্যাব।
রাজনীতিতে শামীমা নূর পাপিয়ার উত্থান এবং তাকে প্রশ্রয় দেওয়ার পেছনে নরসিংদী ও ঢাকার বর্তমান ও সাবেক তিন সাংসদের নাম এসেছে। তাদের মধ্যে ঢাকার সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সাংসদ সাবিনা আক্তারের (তুহিন) সঙ্গে পাপিয়ার ঘনিষ্ঠতার কথা যুব মহিলা লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীরা প্রকাশ্যেই বলছেন। পাপিয়ার অপরাধজগৎ সম্পর্কে জানতে সাবেক এই নারী সাংসদকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাবেক সাংসদ সাবিনা আক্তারের প্রশ্রয়ে ক্ষমতার দাপট দেখানোর পাশাপাশি বেপরোয়া জীবন যাপন করতেন পাপিয়া। মূলত তার মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও কয়েকজন সাংসদের সঙ্গে পরিচয় ও সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন পাপিয়া।
এ অবস্থায় এখনই ওই নারী সাংসদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা নিয়ে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন তদন্তে যুক্ত কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, সাবেক নারী সাংসদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কথা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন পাপিয়া।
অভিযোগের বিষয়ে সাবেক এই সাংসদ বলেন, প্রায় দেড় বছর থেকে পাপিয়ার সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়ার মুখোমুখি হয়ে এসব প্রশ্নের জবাব দিতে চান তিনি। তবে দলের বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে পাপিয়াকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, একটি মহলের প্রভাবিত হয়ে পাপিয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে, ডিবির (উত্তর) উপকমিশনার মশিউর রহমান বলেন, পাপিয়ার সাথে অনেকেই বিভিন্ন সময় ছবি তুলেছেন এবং কথাও বলেছেন তাই বলে তারা সবাই অপরাধী হবেন, এমনটা নয়।
এ সময় তিনি আরও জানান, পাপিয়ার অপরাধ কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে কারা, তা উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

