নির্বিচারে পাহাড় কাটছে রোহিঙ্গারা; পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা



কক্সবাজারের উখিয়ায় বসতি গড়ে তুলতে নির্বিচারে পাহাড় কাটছে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা। প্রায় দেড়শ’ ফুট উচ্চতার তিনশ’ ফুট প্রস্থের প্রায় শতাধিক পাহাড়ে রোহিঙ্গা শ্রমিকরা তাণ্ডব চালাচ্ছে। বিভিন্ন প্রভাবশালী এনজিও সংস্থার ছত্রছায়ায় প্রকাশ্যে পরিবেশ বিধ্বংসী পাহাড় কাটার মহোত্সব চললেও দেখার কেউ নেই।
প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা পাহাড় কেটে মাটি সমান করছে। এছাড়া, বুলডোজার দিয়েও পাহাড় কাটা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি এড়াতে দুই লাখ রোহিঙ্গার জন্য নতুন আবাসন তৈরির নামে এসব পাহাড় কাটাছে আইওএমসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা।
রোহিঙ্গা শ্রমিকরা দৈনিক চারশ’ টাকা মজুরিতে পাহাড় কাটছে। পাহাড় কাটার অনুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে সরে পড়েন। এখানে প্রায় অর্ধশতাধিক পাহাড় কাটার জন্য গত ১ মাস আগে থেকে তারা কাজ শুরু করেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০/৩৫টি পাহাড় কাটার কাজ শেষ হয়েছে।
বন বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, পাহাড় কাটার জন্য কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। নির্বিচারে বন ও পাহাড় কাটার ফলে এ অঞ্চলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা। এ কারণে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কাও করছেন তারা।
অভিযোগ আছে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা একত্রিত হয়ে পাহাড় কেটে সমতল ভূমিতে পরিণত করছে।বর্তমানে প্রতিদিন কয়েক হাজার রোহিঙ্গা পাহাড় নিধনে ব্যস্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এসব পাহাড় কাটায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। উখিয়ার কুতুপালং, মধুরছড়া, লম্বাশিয়া, পালংখালী, বালুখালী, তাজনিমার খোলাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে শতাধিক পাহাড় কেটে বসতি গড়ার কাজ করছে রোহিঙ্গারা। পাহাড় কাটতে জনপ্রতি দৈনিক ৪০০ টাকা করে পারিশ্রমিকও পাচ্ছেন তারা।
কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নিতে সরকার আরও ৫৪০ একর বনভূমি-পাহাড় বরাদ্দ দিয়েছে। তাই ওইসব এলাকায় ঝুঁকিতে থাকা রোহিঙ্গাদের বর্ষার আগেই নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করতে এনজিও’রা কাজ করছে।’ তবে ঢালাওভাবে পাহাড় কাটার বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।
মিয়ানমারের রাখাইনে গত ২৫ আগস্ট সহিংসতা শুরুর পর থেকে রোহিঙ্গারা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আসছে। টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার ৪ হাজার ৩০০ একর পাহাড় ও পাহাড়ি এলায় তাদের বসতি গড়ে উঠেছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে পালিয়ে আসা নতুন রোহিঙ্গার সংখ্যা ৬ লাখ ৫৫ হাজার। আর নতুন-পুরোনো মিলিয়ে এখন শুধু কক্সবাজারেই আছে ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা।