দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি আগের তুলনায় বেড়েছে। ফলে দেশের বাজারে চাহিদা তুলনায় পণ্যটির সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় দাম কমতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে হিলি স্থলবন্দরের পাইকারি বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ১০ টাকা কমেছে। আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে আগামী দিনগুলোয় পেঁয়াজের দাম বর্তমানের তুলনায় আরো কমে আসতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা।
গতকাল হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজের আড়তগুলো ঘুরে ভারতের নাসিক, ইন্দোর ও গুজরাট থেকে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আমদানি হতে দেখা যায়। স্থানীয় পাইকারি বাজারে (ট্রাক সেল) আমদানি করা এসব পেঁয়াজ বিক্রি হয় মানভেদে কেজিপ্রতি ১৭-২০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও এসব পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ২৪-৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে হিলির পাইকারি বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে সর্বোচ্চ ১০ টাকা। পাইকারির পাশাপাশি খুচরা পর্যায়েও আমদানি করা পেঁয়াজের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। গতকাল স্থানীয় খুচরা বাজারে ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয় কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও পণ্যটি মানভেদে কেজিপ্রতি ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে হিলির খুচরা বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে সর্বোচ্চ ১০ টাকা। অন্যদিকে স্থানীয় বাজারে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৫-৪০ টাকায়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কমেছে কেজিতে ৫ টাকা।
মূলত বাড়তি আমদানির জের ধরে পাইকারি ও খুচরা দুই বাজারেই পেঁয়াজের দাম কমেছে। হিলি স্থলবন্দর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগে এ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রতিদিন ১০-১৫ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হলেও বর্তমানে এর পরিমাণ ৩৫-৪০ ট্রাকে উঠে এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৪২৩টি ট্রাকে মোট ৮ হাজার ৩৩৯ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। পরের মাসে এ স্থলবন্দর দিয়ে ৫২৫টি ট্রাকে ১১ হাজার ২৪৭ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। চলতি মাসের প্রথম আটদিনেই (১-৮ মার্চ) ২৯২টি ট্রাকে মোট ৬ হাজার ২৬১ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।
স্থানীয় পেঁয়াজ আমদানিকারক বাবলুর রহমান বলেন, অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার কারণে পেঁয়াজের ন্যূনতম রফতানি মূল্য (এমইপি) তুলে নিয়েছে ভারত সরকার। এর জের ধরে দেশটি থেকে পেঁয়াজ আমদানি বেড়েছে। দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় স্থানীয় আমদানিকারকরা ভারতের বাজার থেকে পণ্যটির আমদানি বাড়িয়েছেন। একই সঙ্গে পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ সরবরাহ বেড়েছে। এ কারণে বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজের বেচাকেনা তুলনামূলক কম রয়েছে। কম দাম ও ভালো স্বাদের কারণে মানুষ দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ বেশি কিনছে। সব মিলিয়ে নিম্নমুখী চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার কারণে হিলির পাইকারি ও খুচরা উভয় বাজারেই ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দামে মন্দাভাব দেখা গেছে।
