দেশে চলমান করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় দুস্থ্, অসহায় ও কর্মহীন মানুষদের সরকারের দেয়া খাদ্য সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে তালিকা প্রণয়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করছেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা বলে অভিযোগ করেছেন কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক এমএ মতিন মহোদয়।
এসময় তিনি জানান, উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ প্রকৃত অসহায় গরীব মানুষদের বঞ্চিত করে নিজেদের ইচ্ছা মত তালিকা করে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নির্দেশ অমান্য করছেন।
২৩ এপ্রিল নিজের দেয়া একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব কথা লিখেছেন সরকার দলীয় (আওয়ামীলীগের) এই সংসদ সদস্য।
নিচে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল-

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য এমএ মতিন জানান, দুস্থ, অসহায় কর্মহীন মানুষের তালিকা করার জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ত্রাণ বিতরণের কমিটি করে সেই কমিটিকে সঙ্গে নিয়ে তালিকা তৈরির নির্দেশনা ছিল ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর’ কিন্তু ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ ত্রাণ বিতরনের কমিটি করলেও তালিকা তৈরির সময় তাদের সাথে না নিয়েই তালিকা করেন।
যেখানে ইচ্ছে যাকে ইচ্ছা নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন নিজেদের খেয়াল-খুশি মত। এতে দেখা গেছে আসল ভুক্তভোগী গরীব, অসহায় এবং প্রকৃত দুস্থও মানুষরা বাদ পড়েছে।
আবার এমন দেখা গেছে অনেক জায়গায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, বর্তমানে দেশে করোনার প্রভাবে সরকারকে হয়ত দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য সহায়তার পরিকল্পনা হাতে নিতে হতে পারে সেক্ষেত্রে এরকম ত্রুটিপূর্ণ তালিকা করা হলে সেক্ষেত্রে সরকারের ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে, যা এই মুহূর্তের জন্য অনেক চিন্তার।
অধ্যাপক এমএ মতিন বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে দিনমজুর শ্রেণির অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে বাড়িতে রয়েছেন যারা খাদ্যকষ্টে দিন যাপন করছেন জানিয়ে ‘ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা এই শ্রেণির অনেক মানুষকে তালিকায় স্থান না দিয়ে সামর্থবানদেরও নাম তালিকাভুক্ত করছেন। এছাড়া তারা পুরাতন সুবিধাভোগীদেরও নতুন তালিকায় স্থান দিচ্ছেন।
এ ব্যাপারে আমি এর প্রতিবাদ করে পুনরায় নতুন তালিকা করা এবং সেইসাথে তালিকা সংশোধন করতে তাদের নিজেদের করা তালিকা ফেরত দিয়েছি। আমি বলেছি যে, যারা প্রকৃত অসহায়, গরীব ও কর্মহীন তাদেরকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা তৈরি করতে হবে। এতে করে আমাদের বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের উদ্দেশে সফল বাস্তবায়ন হবে।
পেপার’স লাইফ/চন্দন কুমার সরকার, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

