ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। এর মাঝেই ভোট নিয়ে সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র রুখতে নেতা-কর্মীদের অনন্য এক কৌশল বাতলে দিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক রোডে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, ভোটের দিন সকালে নেতা-কর্মীরা যেন ভোটকেন্দ্রেই ফজরের নামাজ আদায় করেন এবং ফলাফল না নিয়ে মাঠ না ছাড়েন।
ঢাকা-৫ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নবী উল্লাহ নবীর সমর্থনে আয়োজিত এই বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, “সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রে থাকবেন। ফজরের নামাজ ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে আদায় করবেন। নামাজ পড়েই ওখানে দাঁড়িয়ে যাবেন, যাতে কেউ কোনো ষড়যন্ত্র করার সুযোগ না পায়।”
তিনি নেতা-কর্মীদের কেবল ভোট দিয়েই দায়িত্ব শেষ না করার পরামর্শ দিয়ে আরও যোগ করেন, “শুধু ভোট দিলেই চলবে না, ভোট দিয়ে বাড়ি চলে আসবেন না। আপনাদের ভোটের হিসাব বুঝে নিয়ে তবেই ফিরবেন। আমানতের খেয়ানত হতে দেবেন না।” তারেক রহমানের এই বক্তব্যের সময় উপস্থিত জনতা মুহুর্মুহু করতালিতে মাঠ প্রকম্পিত করে তোলে।
ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে ১৬ বছরের দোসররা
দীর্ঘ দেড় দশক পর দেশে হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে ঘিরে নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিগত ১৬ বছর যারা জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে, তাদের দোসররা এখনো প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে সক্রিয়। তিনি অভিযোগ করেন, এরই মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় নকল ব্যালট পেপার তৈরির চেষ্টার খবর গণমাধ্যমে এসেছে। এসব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে ভোটারদের অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে।
জনসভায় তারেক রহমান স্থানীয় সমস্যার দিকেও নজর দেন। বিশেষ করে ডেমরা-যাত্রাবাড়ী এলাকার দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “আগের স্বৈরাচারী সরকার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানি করে পকেট ভরতে চেয়েছিল। আমরা ক্ষমতায় এলে দেশীয় খনি থেকে গ্যাস উত্তোলন করে এই সংকট স্থায়ীভাবে দূর করব।”
নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। তারেক রহমানের এই কড়া নির্দেশনার পর ভোটকেন্দ্রে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখা বিএনপির জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। যদি সত্যি সত্যিই হাজার হাজার নেতা-কর্মী ভোরে কেন্দ্রে অবস্থান নেন, তবে তা যেকোনো অশুভ তৎপরতা রুখতে বড় ঢাল হিসেবে কাজ করবে। তবে সাধারণ ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটদান নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রাখা এখন নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে।
জনসভার মূল দিক ও বার্তাগুলো:
কৌশল: ভোটকেন্দ্রে ফজরের নামাজ আদায় করে সারাদিন অবস্থান নেওয়া।
সতর্কবার্তা: ৫টার পর ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দেওয়া।
প্রতিশ্রুতি: যাত্রাবাড়ীতে আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
আহ্বান: ভয়ভীতি উপেক্ষা করে কেন্দ্র দখলকারীদের রুখে দেওয়া।

