বধিরতাকে জয় করা এক দম্পতি!


paperslife

বধিরতাকে জয়! শুনে অবাক হওয়ার মতোই কথা তাই না? হ্যাঁ লেবাননের এক বধির দম্পতির কথাই বলছি।

হাবিব এবং ক্যারোল এরা দুজনেই লেবাননের নাগরিক। বিয়ে করেছেন একে অপরকে ভালোবেসে। কিন্তু তারা দুজনেই জন্মগতভাবে ছিলেন বধির। সেজন্য তারা সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ (ইশারা বা সাংকেতিক ভাষা) ব্যবহার করে তারা একে অন্যের সাথে ভাবের আদান প্রদান করেন।

বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তারা জানিয়েছেন, যে একে অপরকে দুজনেই অনেক আগে থেকে চিনতেন। কিন্তু শুরুতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। একসময় ধীরে ধীরে তাদের পরিচয় থেকে পরিণয় হয়। তারা আরও জানান, কানে না শোনার পাশাপাশি কথা বলতেও সমস্যা হয় তাদের দু’জনেরই। কিন্তু তাদের এই সমস্যার কারণে ভালোবাসার কোন কমতি ছিল না।

এ বিষয়ে হাবিব জানান, ক্যারোল স্কুলে আমার নিচের ক্লাসে পড়তো। এরপর বধিরদের নিয়ে আয়োজিত নানা অনুষ্ঠানেও বেশ কয়েকবার তার সাথে আমার দেখা হয়। কিন্তু তখনও তার জন্য বিশেষ কিছু অনুভব করিনি।। একদিন এক বন্ধুর বাসায় এক অনুষ্ঠানে তাকে দেখে আমি হঠাৎই তার প্রেমে পড়ি।

এবং ক্যারোলও শুরুতে হাবিবকে বন্ধুর মতোই দেখতেন। দু’জনের সম্পর্কের বিষয়ে জানার পর তাদের পরিবার শুরুতে কিছুটা আপত্তি করলেও পরে মেনে নেয়। কারণ ক্যারোল ক্যাথলিক খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী আর হাবিব শিয়া মুসলিম।

সেসময় সমস্যা তৈরি হয়েছিলো তাদের আরেকজায়গায়, কারণ লেবাননে ধর্মীয় স্বীকৃতি ছাড়া বিয়ে করা বৈধ নয়, তাই তারা পার্শ্ববর্তী দেশ সাইপ্রাসে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন।

তবে হাবিব এবং ক্যারোল তাদের একটি বিষয়ে একমত ছিলেন যে তারা তাদের শারীরিক ত্রুটির বিষয়ে লজ্জিত ছিলেন না। ক্যারোল আর হাবিবের চাওয়া – তাদের সন্তান যেন বধির না হয়।

ক্যারোল বলেন, একজন বধির ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে কঠিন বিষয় হলো কাজ পাওয়া। যারা কানে শুনতে পায়, অধিকাংশ সময় তারা আমাদের কথা বুঝতে পারে না। যখন তারা আমাদের কথা বুঝতে পারে না, তখন আমরা অনেকসময় হতাশ হয়ে যাই। অনেকসময় তারা আমাদের নিয়ে হাসাহাসিও করে।

আরও জানা যায়, ক্যারোল আর হাবিবের বিয়ের অনুষ্ঠানে স্থানীয় বধির গোষ্ঠীর সবাই আমন্ত্রিত ছিলেন। তাদের বিয়ের প্রস্তুতির নানা কাজেও তারা তাদের এলাকার বধিরদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এছাড়াও, তাদের বিয়ের আংটি এবং পোশাকের ডিজাইনারও ছিলেন একজন বধির ব্যক্তি।

তবে সবকিছু ছাপিয়ে এই বধির দম্পতি জানিয়েছেন যে তারা খুব সুখে আছেন সাংসারিক জীবনে।