গত দুদিনে রাজধানীর পাইকারি বাজারে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চিনির দাম ৯০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একইভাবে বেড়েছে খুচরা পর্যায়েও। ব্যাংকঋণের সুদের হার বেড়ে যাওয়ার প্রভাব চিনির বাজারে পড়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
রাজধানীর পুরান ঢাকার পাইকারি চিনি ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন জানান, গত সোমবার থেকে চিনির দাম বাড়তে শুরু করেছে। ওইদিন ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা চিনি বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ৪৫০ থেকে ২ হাজার ৪৬০ টাকায়। গতকাল তা বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৫৪০ থেকে ২ হাজার ৫৫০ টাকায়।
মৌলভীবাজারের চিনির পরিবেশকরা জানান, ব্যাংকঋণের সুদের হার বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে চিনির দামে। দুদিন আগেও মিল গেটে প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ৫০ টাকা ৮ পয়সা। একই চিনি এখন মিল গেটে চাওয়া হচ্ছে প্রতি কেজি ৫১ টাকা।
জানতে চাইলে মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ সুগার মিলের প্রধান বিক্রয় কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন জানান, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অপরিশোধিত চিনি আমদানি করে প্রতি কেজি পরিশোধিত চিনি উৎপাদনে খরচ পড়ছে ৫৫ টাকার উপরে। অথচ তারা বিক্রি করছেন ৫০ টাকার নিচে। বাজারে সরকারি চিনি প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সে তুলনায় বেসরকারি মিল মালিকদের চিনিও ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া উচিত।
মিল গেট ও পাইকারিতে চিনির দামের প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দুদিনের ব্যবধানে খুচরায় চিনির দাম বেড়েছে কেজিতে সর্বোচ্চ ২ টাকা। সোমবারও এ বাজারের খুচরা দোকানিরা প্রতি কেজি চিনি বিক্রি করেছিলেন ৫৩-৫৫ টাকায়। একই চিনি এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৫৭ টাকায়। পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়ে যাওয়ায় তারাও বেশি দামে চিনি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানান খুচরা ব্যবসায়ীরা।
