প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপির এক নেতা চাদর খুলে বলে দিয়েছেন, ভারতের পণ্য ব্যবহার করবেন না। যে নেতারা বলছেন, ভারতীয় পণ্য বর্জন করেন। তাদের বউদের কয়খানা ভারতীয় শাড়ি আছে? তারা বউদের কাছ থেকে শাড়িগুলো এনে কেন পুড়িয়ে দিচ্ছেন না? আমি জানি, বিএনপির বহু মন্ত্রীর বউরা ওখানে গিয়ে শাড়ি কিনে এনে এখানে বেচতো। আমি বিএনপি নেতাদের বলবো, তাদের বউরা যেন ভারতীয় শাড়ি না পরেন। যেদিন ওগুলো এনে অফিসের সামনে পোড়াবেন, সেদিন বিশ্বাস করবো, আপনারা ভারতীয় পণ্য বর্জন করলেন।
আজ বুধবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, তাদের কারও পাকের ঘরে যেন ভারতীয় মসলা না দেখা যায়। এটা তারা করতে পারবেন কি না? আপনারা রংঢং করতে ওস্তাদ। সত্যিকার অর্থে বর্জন করছেন কি না, এটা জানতে চাই।
সরকারপ্রধান বলেন, বিএনপির এক নেতা বলছেন, গণতন্ত্র কোথায়? গণতন্ত্র আপনি দেখবেন কীভাবে। না দেখতে পারা তাদের মুদ্রাদোষ বলা যায়। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, গণতন্ত্রের সংজ্ঞা কী? গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল। এটাই তো। ক্যান্টনমেন্টের হাতে ক্ষমতা থাকলে গণতন্ত্র থাকবে? যাদের হাতে ডান্ডা আছে, তাদের হাতে ক্ষমতা থাকলে আপনারা ঠান্ডা? জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকুক চান না?
তিনি বলেন, আমাদের কিছু আঁতেল আছে এদেশে। বুদ্ধিজীবী! বুদ্ধি বেচিয়া জীবিকা নির্বাহ করে যারা। বুদ্ধির অবশ্যই দরকার আছে। কারণ বুদ্ধি না হলে তো দেশ এগোতে পারবে না। জনগণের গণতন্ত্রে তারা বিশ্বাস করে না। কিছু অতিবাম ও অতিডান একসঙ্গে হয়ে গেছে। বিপ্লব করতে করতে দাঁড়ি-কমা-সেমিকোলন হতে হতে তারা নিজেরাই শেষ।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি নেতাদের দেখা পেলেই বউদের শাড়ি এবং মসলার কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন ২৫ মার্চ বাংলাদেশের ওপর আক্রমণ চালায়, সেই পাকিস্তানি আর্মির একজন কিন্তু জিয়াউর রহমান। সেও হামলা চালিয়েছে। একজন অফিসারের মাধ্যমে ঘোষণা দিলে বিশ্বাসযোগ্য হবে, এজন্য তাকে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করানো হয়েছিল। আমরা সবার অবদান স্বীকার করি। রেডিও’র ঘোষক আছে, টিভির ঘোষক আছে, এমনকি আজকের এই অনুষ্ঠানেরও তো ঘোষক আছে।
তিনি বলেন, আসলাম বেগ তো ঘোষণা দিয়েছে, জিয়াউর রহমানের কার্যক্রমে তারা সন্তুষ্ট। কেন জানেন? সবচেয়ে বেশি মুক্তিযোদ্ধা হত্যা হয়েছে, জিয়াউর রহমানের সেক্টরে। সে কখনো যুদ্ধ পরিচালনাই করেনি, নিজেকে নিরাপদ জায়গায় রেখেছে। তার নেতৃত্বের অভাবেই এতবেশি হতাহত হয়েছে।

