কথা কাটাকাটির ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন।
জানা যায়, বহির্বিভাগের টিকেট কাটা নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে এই ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা লাঠি-সোটা নিয়ে বঙ্গবন্ধু বিএসএমএমইউ’র ১টি অ্যাম্বুলেন্স, ১টি বাসসহ কমপক্ষে ৮টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। হামলার সিসিটিভি ফুটেজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। হামলার ঘটনায় বিএসএমএমইউ’র পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পিয়াস, সাব্বির, নাঈম ইসলাম, সাগর শাহরিয়ার নিয়ম বহির্ভূতভাবে বহির্বিভাগের টিকিট চায়। এ নিয়ে পূবালী ব্যাংকের কর্মকর্তা খালিদ হোসেনের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়।
এসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন ওই চার শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালকের (হাসপাতাল) কক্ষে নিয়ে যান। পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহবুবুল হক বিষয়টির সমাধান করে দেন। কিন্তু পরে ওই শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে বের হয়ে সি ব্লকের সামনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনকে মারধর করে। বিষয়টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর ঢাবির ২ জন সহকারী প্রক্টর ও জসিমউদ্দিন হলের ভিপি মো. ফরাদ বিএসএমএমইউতে আসেন। এ বিষয়ে শাহবাগ থানা পুলিশকেও অবহিত করা হয়।
পরবর্তীতে শাহবাগ থানা পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিএসএমএমইউ’র পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহবুবুল হক, ঢাবির প্রক্টর অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ আলোচনায় বসেন। আলোচনা চলার সময় বিকাল ৩টা ৫০ মিনিটে ঢাবির ২৫-৩০ জন শিক্ষার্থী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ ও ২নং গেট দিয়ে প্রবেশ করে গাড়ি ভাঙচুর করে।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই চার শিক্ষার্থীকে শাহবাগ থানা পুলিশ তাদের থানা হেফাজতে নিয়ে যায়। ঢাবি শিক্ষার্থীদের হমলায় আহতরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

