ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ শেষে বিরোধী জোটের সংসদীয় দলের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিরোধীদলীয় উপনেতা ও চিফ হুইপ হিসেবেও নতুন নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ
দীর্ঘ দেড় দশক পর বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এক বিশাল গুণগত পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। এবারের নির্বাচনে সংসদীয় বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট। আজ শপথ নেওয়ার পর সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় জোটের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারকরা ডা. শফিকুর রহমানকে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেন।
ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। তিনি কুমিল্লা-১১ আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। অভিজ্ঞ এই দুই রাজনীতিকের নেতৃত্বে সংসদে বিরোধী পক্ষ কতটা জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
চমক হিসেবে নাহিদ ইসলাম ও তারুণ্যের উপস্থিতি
এবারের সংসদীয় কাঠামোর সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের পদটি। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং জুলাই বিপ্লবের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে আসা নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসন থেকে জয়ী হয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নাহিদ ইসলামের মতো তরুণ নেতৃত্বকে চিফ হুইপ করার মাধ্যমে বিরোধী জোট মূলত সংসদের কার্যক্রমে তারুণ্য ও গতিশীলতার প্রতিফলন ঘটাতে চাচ্ছে। এছাড়া মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বিরোধীদলের হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জোটের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এক নজরে বিরোধী শিবিরের শীর্ষ পদাবলি
| পদের নাম | মনোনীত ব্যক্তিত্ব | রাজনৈতিক দল / জোট |
| বিরোধীদলীয় নেতা | ডা. শফিকুর রহমান | বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী |
| বিরোধীদলীয় উপনেতা | ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের | বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী |
| বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ | নাহিদ ইসলাম | জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) |
| বিরোধীদলীয় হুইপ | মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান | বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী |
সংসদকে কার্যকর করার প্রত্যয়
শপথগ্রহণ শেষে এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করব না। সংসদকে প্রাণবন্ত ও কার্যকর রাখা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা এবং জনগণের সঠিক দাবিগুলো আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংসদে তুলে ধরব।”
অন্যদিকে, চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান, রাজপথের লড়াই যেমন ছিল আপসহীন, সংসদের ভেতরেও জনগণের অধিকার আদায়ে একইভাবে সোচ্চার থাকবে তাঁর দল ও জোট। তিনি মনে করেন, পুরাতন রাজনৈতিক সংস্কৃতির বলয় ভেঙে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সংসদীয় ব্যবস্থা কায়েম করাই হবে তাঁদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

