বিলম্বিত হতে পারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন



অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে মিয়ানমার থেকে দেশটির সেনাবাহিনীর দমন পীড়নে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া। চলতি মাসে এ প্রক্রিয়া শুরুর জন্য চুক্তি হলেও প্রস্তুতির ঘাটতি থাকায় তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যাবাসনের জন্য শুরুতে মিয়ানমারকে এক লাখ রোহিঙ্গার যে তালিকা দেওয়ার কথা, সেটি গতকাল পর্যন্ত তৈরি হয়নি।
ফলে প্রত্যাবাসন তদারকির জন্য গঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) প্রথম বৈঠকের আগে তা চূড়ান্ত করা অনেকটা অসম্ভব মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কাজে যুক্ত ঢাকা ও কক্সবাজারে কর্মরত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান উপাদান রাখাইনের এসব অধিবাসীর তালিকা। বাংলাদেশের পাঠানো তালিকা মিয়ানমার তাদের নিজেদের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে। রোহিঙ্গাদের এই তালিকা পরিবারভিত্তিক করার ওপর জোর থাকছে। সেই সঙ্গে এলাকার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকছে। ফলে হুট করে বাংলাদেশের তথ্যভান্ডারে এ পর্যন্ত যুক্ত রোহিঙ্গাদের তালিকা থেকে এক লাখের নাম দিলেই চলবে না, সব মিলিয়ে এই তালিকা চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ে সময় লাগবে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় সূত্র গতকাল জানিয়েছে, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে রোহিঙ্গাদের তথ্য সংগ্রহের কাজ চললেও প্রথম দফায় কাদের বাংলাদেশ ফেরত পাঠাতে চায়, সেই তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া গত সোমবার পর্যন্ত শুরুই হয়নি। এই তালিকা তৈরির জন্য জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিসহ ৯ সদস্যের একটি কারিগরি কমিটি করেছিল পররাষ্ট্রসচিবের নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ। ওই কারিগরি কমিটির কোনো সভা হয়নি। তালিকা তৈরির মানদণ্ড ঠিক হয়নি।
জানা গেছে, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর গত মঙ্গলবার পর্যন্ত নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে ৯ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯৩ জনের নাম নিবন্ধিত করেছে। ওই তালিকা থেকে শুরুতে মিয়ানমারের কাছে এক লাখ রোহিঙ্গার তালিকা পাঠানো হবে।
এদিকে আগামী সোমবার মিয়ানমারের নতুন প্রশাসনিক রাজধানী নেপিডোতে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রসচিব মিন্ট থোয়ের নেতৃত্বে দুই দেশের জেডব্লিউজির প্রথম বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
নেপিডোতে অনুষ্ঠেয় বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদুল হক গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, জেডব্লিউজির প্রথম বৈঠকে প্রত্যাবাসন শুরুর লক্ষ্যে ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট নামের মাঠপর্যায়ের চুক্তিটি চূড়ান্ত করা হবে।
এদিকে প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য যখন দুই দেশ প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন রাখাইনে ফেরার ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করেছে রোহিঙ্গারা।
মিয়ানমারের রাখাইনে গত ২৫ আগস্ট সহিংসতা শুরুর পর থেকে রোহিঙ্গারা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আসছে। টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার ৪ হাজার ৩০০ একর পাহাড় ও পাহাড়ি এলায় তাদের বসতি গড়ে উঠেছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে পালিয়ে আসা নতুন রোহিঙ্গার সংখ্যা ৬ লাখ ৫৫ হাজার। আর নতুন-পুরোনো মিলিয়ে এখন শুধু কক্সবাজারেই আছে ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা।
আরও পড়ুন;
রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে সাধ্যমত চেষ্টা করবে তুরস্ক
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতার প্রস্তাব জাপানের  
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সহযোগিতা করবে চীন
রোহিঙ্গা সংকট: সু চির সঙ্গে ট্রুডোর বৈঠক  
রোহিঙ্গা সংকট: বছরে লাগবে সাত হাজার কোটি টাকা
রোহিঙ্গাদের ফেরাতে চারটি শর্ত দিয়েছে মিয়ানমার
সোমবার থেকে ফের রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা শুরু
রোহিঙ্গা সংকট: মিয়ানমারে ফিরতে চায় ৭৮% রোহিঙ্গা     
রোহিঙ্গা সংকট: হত্যা করা হয়েছে ৬,৭০০ রোহিঙ্গাকে