বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, এর আগেও যখন বেগম জিয়া অসুস্থ হয়েছেন, তখনই তাদের দলীয় মেডিকেল বোর্ড ঘোষণা বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য সংকটপণ্য উল্লেখ করে তাকে বিদেশে নেয়ার কথা বলেছে। দলীয় মেডিকেল বোর্ড বিএনপির মতোই বক্তব্য দিচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।
মেডিকেল বোর্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে যদি তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া না যায়, তাহলে তাকে বিদেশে নেয়া হবে কীভাবে, এটাই প্রশ্ন।
দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমেই তার ভালো চিকিৎসা করা সম্ভব মন্তব্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি নিজেদের তত্ত্বাবধানেই বেগম জিয়ার চিকিৎসা করাচ্ছে। এর আগে সরকার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিল। সেটি পছন্দ হয়নি বলেই পারিবারিক সিদ্ধান্তে এবার এভারকেয়ারে চিকিৎসা করাচ্ছে। তারা চাইলে সরকার আবার সহযোগিতা করবে।
আরও পড়ুনঃ “দেশ পরিচালনা করতে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই”
প্রধান অতিথির বক্তব্য দান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর যেখানেই হোক, বাংলাদেশ সংঘাতের বিপক্ষে। আমরা সংঘাতময় পৃথিবী চাই না। আমরা শান্তি চাই। ফিলিস্তিন অঞ্চলে আজ বহু বছর ধরে দশকের পর দশক ধরে সংঘাত চলছে এবং ফিলিস্তিনিরা তাদের অধিকারের জন্য লড়াই করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার জাতিসংঘের বক্তৃতায় ফিলিস্তিনিদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। আমাদের সরকার সবসময় ফিলিস্তিনিদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন এবং অনেক সময় আমরা সাহায্য সহযোগিতাও করেছি।
তিনি বলেন, সেখানে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তাতে ফিলিস্তিন বা ইসরায়েল যেখানেই হোক, সাধারণ মানুষের হত্যাকাণ্ড আমরা সমর্থন করি না। এবং যুদ্ধের নামে গাজা স্ট্রিপে খাদ্য, পানিসহ সমস্ত কিছু সরবরাহ বন্ধ করে ফিলিস্তিনিদের যেভাবে জিম্মি করা হয়েছে, সেটি কখনো সমর্থনযোগ্য নয়। এটি যুদ্ধ সংক্রান্ত যে আন্তর্জাতিক কনভেনশন আছে, সেটির নিয়মনীতিরও পরিপন্থী।
বিএনপি সম্প্রতি তাদের কয়েকজন নেতার বিচারে সাজা হওয়ায় আদালতের রায়কে ‘ফরমায়েশি’ বলেছে, এ নিয়ে প্রশ্নে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দেশে আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করে, ফরমায়েশি রায় দেয় না। বিএনপির নেতারা যদি নিম্ন আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট না হন, তাহলে উচ্চ আদালতে যেতে পারেন। আরও দুই স্তর উচ্চ আদালত আছে।’

