ব্যারেলপ্রতি গড় দাম ৭৮ ডলারে পৌঁছবে জ্বালানি তেলের দাম



কিছুদিন ধরে জ্বালানি পণ্যটির দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের আশপাশে অবস্থান করছে। এ ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম আগের তুলনায় বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আর বছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) এর পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ ডলার।
নিউইয়র্কভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
আগামী দিনগুলোয় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পূর্বাভাস দিয়েছে। ব্যাংক অব আমেরিকার পূর্বাভাসে চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ধরা হয়েছে ৬৪ ডলার। আর নিউইয়র্কভিত্তিক আরেক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাসে এ সময় জ্বালানি পণ্যটির গড় দাম ধরা হয়েছে ৬২ ডলার। সে হিসাবে বছরের প্রধমার্ধে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ৭০ ডলার প্রাক্কলন করেছে জেপি মরগান, যা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রাক্কলনের তুলনায় বেশি। আর বছরের দ্বিতীয় ভাগে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৮ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে জেপি মরগানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) গড় দাম দাঁড়াতে পারে ৬৫ ডলার ৬৩ সেন্টে।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির পেছনে দুটি কারণকে চিহ্নিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রথমত. বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ছে। বাড়তি চাহিদার জের ধরে চলতি বছরজুড়ে বেচাকেনা বেশি হওয়ায় পণ্যটির দামে তেজিভাব দেখা দিতে পারে। দ্বিতীয়ত. অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানিকারকদের জোট অর্গানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজের (ওপেক) আওতায় পণ্যটির বৈশ্বিক উত্তোলন হ্রাসসংক্রান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের হার সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। এর জের ধরে আগামী দিনগুলোয় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যটির সরবরাহ সীমিত থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে বাড়তি চাহিদা, এর বিপরীতে আগের তুলনায় সীমিত সরবরাহের কারণে চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম বাড়বে বলে মনে করছে জেপি মরগান। প্রতিষ্ঠানটির জ্বালানি তেলবিষয়ক বিশ্লেষক অভিষেক দেশপাণ্ডে বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি তেল খাতের জন্য ২০১৮ একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বাড়তি চাহিদার বিপরীতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ সীমিত রাখা সম্ভব হলে দামে তেজিভাব বজায় থাকবে। এ ধারাবাহিকতায় পরবর্তী ছয় মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম তিন বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছে যেতে পারে। তবে জ্বালানি পণ্যটির বাজার পরিস্থিতি বদলের সুফল ভোগের জন্য উত্তোলনকারী দেশগুলোকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে টানা তিনদিন অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে মন্দাভাব বজায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গতকাল ভবিষ্যতে সরবরাহের চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হয় ৬৮ ডলার ৩৩ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ১ শতাংশ কম। গত দুই সপ্তাহের মধ্যে এটাই পণ্যটির সর্বনিম্ন দাম। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে মঙ্গলবার সপ্তাহের সর্বনিম্ন দামে বিক্রি হয় ডব্লিউটিআই। গতকাল পণ্যটির দাম আগের দিনের তুলনায় আরো ১ শতাংশ কমেছে। দিন শেষে ভবিষ্যতে সরবরাহের চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই বিক্রি হয় ৬৩ ডলার ৮৩ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ৬৭ সেন্ট কম। দুবাইভিত্তিক সান গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্টের প্রধান নির্বাহী মিহির কাপাডিয়া জানান, কয়েক বছর ধরে মার্কিন উত্তোলন খাতে তেজিভাব বজায় রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে দেশটিতে জ্বালানি তেল মজুদের পরিমাণ দৈনিক ৩২ লাখ ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট (এপিআই), যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি।