রকিবুল হাসান উড়িয়ে মেরেছেন। বল কোথায় গিয়েছে তা দেখার প্রয়োজন অবশ্য নেই, ততক্ষণে বাংলাদেশের ১৯ না পেরোনো যুবারা ঢুকে পড়েছে মাঠে। বাংলাদেশ যে চ্যাম্পিয়ন! বিশ্বকাপের প্রথম চ্যাম্পিয়ন।
১৯ না পেরোনো এক দল তরুণ যোদ্ধা দেখিয়েছে হারার আগে হেরে যাওয়া যাবে না। লড়তে হবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। আর তাইতো ভারত বাধা পেরিয়ে বিশ্ব মঞ্চে বাংলাদেশের বিজয়ের নিশান উড়ছে।
আকবর আলীর দলটি রক্ত জল করে একটি ট্রফি এনে দিয়েছে। বিশ্ব আসরের প্রথম ট্রফি। জাতীয় দলের অভিজ্ঞরা যা পারেনি, তাই করে দেখিয়েছে ভবিষ্যতের কর্ণধাররা। ভারতকে থামিয়েছে, ভারতের বিপক্ষে খেই হারিয়ে ফেলার চিরায়িত প্রথা থেকে বেরিয়ে এসেছে।
এতোটা সহজ ছিল না এ পথ। ক্ষণে ক্ষণে রং বাদলানো ফাইনালে জিতেছে ইমন, সাকিব, আকবরদের বাংলাদেশ।
ভারতের দেওয়া ১৭৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের জয় তিন উইকেটে। ৫০ রানে প্রথম উইকেটে হারানো বাংলাদেশ এক পর্যায়ে ৬৫ রানে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পরে। মাঝে ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনের ইঞ্জুরি শঙ্কা জাগায়। সবগুলো উইকেটই পকেটে পুড়ে ভারতীয় লেগি রবি বিশনই।
৮৫ রানে পাঁচ, ১০২-এ ছয় উইকেট পড়লে ইঞ্জুরি নিয়েই ব্যাট করতে নামেন ইমন। অধিনায়ক আকবর আলীকে সাথে নিয়ে একটু একটু করে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যেতে থাকেন।
কিন্তু, ১৪৩ রানের সময় ৪৭ রান করে ইমন আউট হলে আবারো শঙ্কা জাগে। তবে ভয়কে উড়িয়ে জয়ের বন্দরে বাংলাদেশের জাহাজ ভিড়ান আকবর আলী।
রকিবুল হাসানকে সাথে নিয়ে জিতেই ফিরেছেন। মাঝে বৃষ্টির বাধা দিলেও, বাংলাদেশের শিরোপা জয়ে বাধা হতে পারেনি কেউই।
এর আগে শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব, রকিবুল হাসান ও অভিষেক দাসদের বোলিং তোপে মাত্র ১৭৭ রানে অলআউট হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। জবাবে বৃষ্টি আইনে ৭ উইকেটে ১৭০ রান করে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।

